ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত ১০০, নিখোঁজ দুই শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩২, ৬ জানুয়ারি ২০২৪
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত ১০০, নিখোঁজ দুই শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

জাপানে নতুন বছরের শুরুতেই আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতে বেড়ে ১০০ জনে পৌঁছেছে। এখনো  নিখোঁজ রয়েছে ২৪২ জন। দের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জীবিতদের উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টা সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু আর কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গত সোমবার (১ জানুয়ারি) জাপানের প্রধান দ্বীপ হোনশুতে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই ভূমিকম্পের জেরে দেশটিতে সুনামিও আঘাত হানে। ভূমিকম্পের ১০ মিনিটের মধ্যে ইশিকাওয়ার ওয়াজিমা শহরে ১.২ মিটার (প্রায় ৪ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানে।

জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ওয়াজিমা শহরের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে- প্রায় ১০০টি জায়গা আছে যেখানে মানুষ এখনো ধ্বংস হওয়া ভবনের নিচে আটকে আছে এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছে।

Advertisement

বার্তা সংস্থা কিয়োডো জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেয়া সেনা সদস্যদের সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬শ’ করেছে জাপানের সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্সেস। ভূমিকম্পে ধসে যাওয়া বাড়িঘরের নিচে অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অধিকাংশ সুজু ও ওয়াজিমা শহরের বাসিন্দা। ওই দুই শহরের কাঠের বাড়িগুলো শক্তিশালী ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করা হয়নি।

ইশিকাওয়াতে ভূমিকম্পে রাস্তার ক্ষতির কারণে কর্তৃপক্ষ এখনো ত্রাণ সরবরাহ করতে সংগ্রাম করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ৩১ হাজারের বেশি লোককে ৩৫৭ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে পানির সংকট এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

ইশিকাওয়া প্রিফেকচারাল সরকার দুর্দশাগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। শনিবার সকালে জাপানের ভূমিকম্পের তীব্রতা স্কেলে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পসহ নোটো অঞ্চলে আফটারশক অব্যাহত রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ওয়াজিমায় একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শত শত স্থাপনা এবং একটি সাততলা ভবন ধ্বংস হয়েছে।

ইশিকাওয়া অঞ্চলে প্রায় ২৩,৮০০টি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন ছিল এবং ৬৬,৪০০টিরও বেশি পরিবারের কাছে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ এবং পানি বিভ্রাট বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যত্ন নেয়ার জন্য হাসপাতাল এবং সুবিধাগুলোতেও ভিড় বেড়েছে।

গভর্নর হিরোশি হাস শুক্রবার বলেছেন, 'আমরা বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। তবে বাস্তবতা হলো- সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

দেশটিতে ২০১১ সালের মার্চ মাসে সমুদ্রের তলদেশে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে আছড়ে পড়ে বিশাল সুনামি। এতে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয় জাপানে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই দেশটিতে বেশি ভূমিকম্প হয়।  দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে দুই হাজারের মতো ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে। ভূমিকম্পগুলোর অধিকাংশই ক্ষীণ হয়ে থাকে। তবে দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পকের অনেক রেকর্ড রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!