শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) জানিয়েছে, পিটিআই- এর আন্তঃদলীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও অসঙ্গতির জন্য দলের ‘ব্যাট’ নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করেছে। নির্বাচনী প্রতীক হারানো পিটিআই এর জন্য একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
পিটিআই-এর প্রতীক নিয়ে এই রায় দেয় পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের ইসিপি বেঞ্চ।
.png)
রায়ে বলা হয়, পিটিআই আমাদের নির্দেশনা মেনে চলেনি এবং পিটিআই- এর প্রচলিত সংবিধান ২০১৯, নির্বাচনী আইন ২০১৭ এবং নির্বাচনী বিধিমালা ২০১৭ অনুযায়ী আন্তঃদলীয় নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, নির্বাচন বেআইনি ঘোষণা করায় পিটিআই চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যারিস্টার গওহর খান আর থাকছনে না। এদিকে তোশাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ইমরান খান আর পিটিআই চেয়ারম্যান থাকার সুযোগ নেই।
তোশাখানা মামলায় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের দোষী সাব্যস্ততা স্থগিত করায় পিটিআইয়ের ক্ষতি বেশি হয়েছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অবশ্য এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার অবকাশ এখনো আছে। কিন্তু নির্বাচনী তফসিলের সময় তো অনেক ঘনিয়ে এসেছে।
গওহর খান বলেন, নির্বাচনের সময়-সূচি পরিবর্তন হলে ইমরান খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আশা সৃষ্টি হবে। কারণ, ইমরান খান কিছু দিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে তার বিষয়ে ফায়সালা পেয়ে যাবেন। তবে এটি নিশ্চিত নয় যে তফসিলের সময় পরিবর্তন হবে কি না।
পিটিআই এবং এর আইন বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, ইমরান খান এখনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। কারণ, তোশাখানা মামলায় কারাদণ্ড স্থগিতের অর্থ সাজাও স্থগিত করা। তবে বেশিরভাগ আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইমরান খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কারণ, সাজা স্থগিত করা দোষী সাব্যস্ত হওয়াকে স্থগিত করে না।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাজহার আব্বাস বলেছেন, নির্বাচন কমিশন কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের ভিতরকার নির্বাচনকে বেআইনি ঘোষণা করেনি। ফলে এখন দেখে মনে হচ্ছে পিটিআই আক্রমণের মুখে রয়েছে। এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। নির্বাচনের প্রতীক কেড়ে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন একটি দলের আভ্যন্তরীণ নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে বিকল্প পন্থা আছে, যা ১৯৮৫ সালে ঘটেছিল। সেই কৌশল কাজে খাটাতে পারে পিটিআই। তিনি বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পিটিআই নিরপেক্ষ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারে। তবে একটি বিষয় খুব পরিষ্কার। তাহলো এই নির্বাচন পিটিআইয়ের জন্য কঠিন থেকে আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
ওদিকে রায়ের জবাবে পিটিআই হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়ন জমা দেয়ার সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে আসায় শনিবারের মধ্যে তাদেরকে একটি ইতিবাচক রায় পেতে হবে। দলটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর আলি খান বলেন, আমরা নির্বাচন বর্জন করব না। আমাদের ‘প্লান বি’ আছে। তবে কি সেই প্লান সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলেননি তিনি।
পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব কানওয়ার মুহাম্মদ দিলশান বলেছেন, কমিশনের নির্দেশের পরে পিটিআই সদস্যরা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন।