ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

প্রেমে আগ্রহ থাকলেও বিয়েতে অনীহা চীনা তরুণ-তরুণীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
প্রেমে আগ্রহ থাকলেও বিয়েতে অনীহা চীনা তরুণ-তরুণীদের
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দ্বিতীয় সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে ক্রমেই কমছে জনসংখ্যার হার। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে চীনের তরুণ-তরুণীরা একাকী থাকতে পছন্দ করছেন।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালের শেষে চীনের জনসংখ্যা ১৪১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ লাখ ৫০ হাজার কম। এনবিএস আরও জানায়, গত বছর চীনে ৯৫ লাখ ৬০ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ১০ হাজার জনের।

১৯৬০ সালের দিকে চীনে জনসংখ্যা কমে। ওই সময় দেশটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছিল। এরপর অবশ্য বিপুলসংখ্যক জনসংখ্যার চাপ কমাতে ১৯৮০ সালে চীন ‘এক সন্তান নীতি’ আরোপ করে।

পরে ২০১৬ সালে এক সন্তান নীতি থেকে সরে আসে চীন। পরবর্তীতে দম্পতিদের তিনটি সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেয় চীন সরকার। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে চীনের এ নতুন সিদ্ধান্তে ভাটা পড়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে শিশু জন্মহার কমছে আশঙ্কাজনকভাবে। ফলে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিশ্বব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বছর দেশটিতে জন্মহার ছিল মাত্র ১ দশমিক ১৬।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির ধাক্কা, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে চীনা তরুণ-তরুণদের মধ্যে বিয়ে করার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। ২০১৩ সালে যেখানে দেশটি ১ কোটি ৩৫ লাখ বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছিল, ২০২২ সালে এসে সেই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৬৮ লাখে।

চীনা তরুণ-তরুণীরা মনে করেন, তাদের আধুনিক জীবনব্যবস্থার সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি খাপ খায় না। এ বিষয়ে সাংহাইয়ের ২৬ বছর বয়সী তরুণ ও ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ইউ ঝাং আল-জাজিরাকে বলেন, ‘চীনে এখন বিয়ে করা মানে হলো একপ্রকার মরে যাওয়া।’

বিয়ের চিন্তা থেকে সরে এসে ঝাং তার প্রেমিকার সঙ্গে ডেটিং করছেন। তারা একাধিকবার বিয়ের বিষয়টি নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের চায়নিজ অ্যান্ড এশিয়া স্টাডিজের সিনিয়র লেকচারার প্যান ওয়াংয়ের মতে, ‘চীনা সমাজে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টি প্রাধান্য পাওয়ার সঙ্গে বিয়েবিষয়ক চিন্তাভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।’ তার মতে, বিয়ে বর্তমান চীনা সমাজে অনেকগুলো জীবনধারার একটি।

চীনের গুয়াংজু প্রদেশের তরুণী জেসিকা ফু। তিনি আল-জাজিরাকে জানান, তার বাবা-মা ও আত্মীয়রা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তবে তিনি সেই চাপ দূরে প্রেম করে বেড়াচ্ছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!