রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, মারাকেশ শহরে এবার রিখটার স্কেলে ৪.৫ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোতে গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ২ জানানো হলেও পরে আবারও তা পরিবর্তন করে ৬ দশমিক ৮ বলে নিশ্চিত করে মার্কিন ভূত্তাত্বিক জরিপ সংস্থা।
.png)
মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় মারাকেশ, আল-হাউজ, আজিলালসহ বেশ কয়েকটি শহর। ধসে পড়ে অনেক ভবন। ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়েন অনেকে। ঘটে প্রাণহানি। এ ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
মরক্কোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯ জন। এদের মধ্যে এক হাজার ৪০৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, মরক্কোর মারাকেশ শহর থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে অবস্থিত আমিজমিজ গ্রামের উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও নিখোঁজদের ধ্বংস্তূপের নিচে খুঁজছেন তাঁদের প্রতিবেশীরা।
মরক্কোয় ভূমিকম্পে মৃত্যু ২ হাজার ছাড়িয়েছেমরক্কোয় ভূমিকম্পে মৃত্যু ২ হাজার ছাড়িয়েছে
মোহামেদ আজাও নামের এক ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি বলেন, ‘ঝাঁকুনি অনুভব করার পর আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু আমার প্রতিবেশীরা পারেননি। ওই পরিবারের কেউই হয়তো বাঁচতে পারেনি।’
মারাকেশ থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণের এলাকা আসনির প্রায় সব বাড়িঘরই ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে। সেখানকার মানুষজনকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাসির ইত্রি বলেন, আমাদের প্রতিবেশীরা চাপা পড়ে আছে। লোকজন তাঁদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।