ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]
ফ্রান্সে গুলি করে কিশোরকে হত্যা

‘আমার ছেলের মুখে আরবের ছাপ দেখেছিল ওই পুলিশ!’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ১ জুলাই ২০২৩
‘আমার ছেলের মুখে আরবের ছাপ দেখেছিল ওই পুলিশ!’
মৌনিয়া - ফাইল ছবি

আফ্রিকান বংশোদ্ভুত ১৭ বছরের কিশোর নাহেল এমকে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে ফ্রান্সে। এবার ওই নিহত কিশোরের পরিবারের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ জুন) প্যারিসে ঘটা এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জাড়িত পুলিশ সদস্যের আইনজীবী লরেন্ট ফ্রাঙ্ক লিনার্ড জানিয়েছেন, ‘আমার মক্কেল প্রথম ও শেষ যে কথা উচ্চারণ করেছেন, তা হল, তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।’

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে লিনার্ড আরো বলেন, ‘অভিযুক্ত ওই পুলিশ অফিসার রীতিমতো বিধ্বস্ত। এমন নয় যে তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে রোজ মানুষ মারেন। ওই কিশোরকেও তিনি তাকে মারতে চাননি। তার পরেও যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা অনভিপ্রেত। এই নিয়ে দেশজুড়ে যে হিংসা ছড়িয়েছে, তাতে আমার মক্কেল হতবাক।’

Advertisement

প্রসঙ্গত, ওই পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছায় খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তিনি আপাতত পুলিশি হেফাজতে আছেন।

অন্যদিকে নিহত নাহেলের মা মৌনিয়া মুখ খুলেছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানিয়েছেন, তার ছেলের মুখে ‘আরবের ছাপ’ দেখেছিলেন ওই অফিসার, সে জন্যই মরতে হল তাকে। অর্থাৎ ওই অফিসারের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষের সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে মৌনিয়া একথাও জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেই তার।

ঘটনার পরে তার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশকে দোষ দিচ্ছি না, আমি ওই একজনকে দোষ দিচ্ছি, যিনি আমার ছেলের জীবন নিয়েছেন। আমার অনেক বন্ধু আছেন, পুলিশ অফিসার। তারা সকলে এই ঘটনার নিন্দা করছেন। ৩৮ বছর বয়সি ওই অফিসারের কাছেও আমার ছেলেকে শাসন করার আরও অনেক উপায় ছিল। কিন্তু এভাবে একটি বুলেট!’– কান্নায় ভেঙে পড়েন মৌনিয়া।

তিনি আরো বলেন, ‘ওই অফিসার আসলে আমার ছেলের মুখে একটি আরবি মুখ দেখেছিলেন এবং তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। এভাবে আর কতদিন চলবে? আর কত সন্তান এভাবে যাবে? আর কত মা কাঁদবে আমার মতো?’

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে মঙ্গলবার ১৭ বছরের এক কিশোর নাহেলকে গুলি করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ট্রাফিক আইন ভেঙেছিল ছেলেটি। তাকে গাড়ি থামাতে বলা হলেও কথা শোনেনি, তাই গুলি করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভ শুরু করেন। এখন সেটিই বড় আকার নিয়েছে দেশজুড়ে। বিক্ষোভ, অশান্তির নানা ছবি, ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা গেছে, পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে উন্মত্ত জনতা। ভাঙচুর করা হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি। পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফায় খণ্ডযুদ্ধও বেধেছে বিক্ষোভকারীদের।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ১৭ বছরের এক কিশোরকে গুলি করে খুন করা কোনও আইনের মধ্যে পড়ে না। অভিযোগ, ফ্রান্সের পুলিশ এর আগেও ট্রাফিক আইন ভাঙার নাম করে গুলি চালিয়েছে বহুবার। এবার এক কিশোর বলি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সারা দেশে ৪০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না ফ্রান্স। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিচার চেয়ে পথে নেমেছেন। পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে একাধিক শহর, মিছিল নেমেছে রাস্তাজুড়ে। পরিস্থিতি ২০০৫ সালের মতো অগ্নিগর্ভ হয়ে পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। জারি হতে পারে জরুরি অবস্থা।

সূত্র: এনডিটিভিদ্য ওয়াল

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!