পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেফতার চীনা নাগরিককে দুই সপ্তাহের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দেশটির পুলিশের বরাতে এক প্রতিবেদনে সাংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা তাহির আইয়ুব জানিয়েছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য অভিযুক্ত চীনা নাগরিককে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
.png)
পাকিস্তানের খাইবারপাখতুনখোয়া প্রদেশে দাসু বাঁধ অবস্থিত। সেখানে কর্মরত চীনা নাগরিক তিয়ান রোববার (১৬ এপ্রিল) ‘রোজা রাখায় কাজের গতি ধীর’ হয়- এ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ সেখানে কর্মরত পাকিস্তানি শ্রমিকদের। এছাড়া হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ধর্মের অবমাননা করেও তিয়ান কথা বলেন বলে অভিযোগ তাদের। তিয়ানকে গ্রেফতারের দাবিতে রোববার একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। সেইসঙ্গে তিয়ান থানায় লুকিয়ে থাকতে পারেন এ সন্দেহে কয়েকশ শ্রমিক স্থানীয় থানায় জোর করে ঢুকে পড়েছিলেন।
আরো পড়ুন>> আল-আকসায় ফের ইসরাইলের হামলা
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিয়ান ইসলামকে অবমাননা করেছেন তাহলে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা আইনে তার বিচার করা হবে।
ইসলামাবাদে চীনা দূতাবাস এখনও এই মামলার বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেছেন যে তারা ‘তথ্য যাচাই করছেন।’
পাকিস্তানি আইনে ধর্ম অবমাননার দায়ের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ আইনে এখনো কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবে অভিযুক্তদের ওপর হামলা ও তাদের পিটিয়ে মারার মতো ঘটনা ঘটে। ১৯৯০ সাল থেকে এ ধরনের সহিংসতায় দেশটিতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা