২০২১ সালের তুলনায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিটি ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি মুনাফা করেছে। শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটি এক বছরে তাদের সর্বোচ্চ আয়।
প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে এটি এক বছরের মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড।
.png)
বিবৃতিতে আরামকোর সিইও এবং প্রেসিডেন্ট আমিন এইচ নাসের বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা অনুমান করি তেল ও গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা সামনেও থাকবে— আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আন্ডারইনভেস্টমেন্টের ঝুঁকির শঙ্কা আছে— যার মধ্যে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে।
কোম্পানিটির সিইও নাসের জানান, এই মুনাফার অর্থের ৩৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নতুন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
আরামকো আরো জানিয়েছে, গত বছরের শেষ চার মাসে লাভ হওয়া ১৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, এ বছরের প্রথম চার মাসের জন্য দেওয়া হবে।
কোম্পানিটি জানিয়েছিল, ২০২১ সালে তারা ১১০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। এর আগের বছর ২০২০ সালে তাদের মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪৯ বিলিয়ন ডলার। ঐ বছর করোনা মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, যাতায়াত, বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যার প্রভাবে চাহিদা ও দাম কমে যায় তেলের।
তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই বিশ্ববাজারের জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছিল। টানা দেড় বছর কোভিডজনিত নানা বিধিনিষেধ থাকার পর উন্নত দেশগুলো তখন কোভিডজনিত সব ধরনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম আরো বৃদ্ধি পায়।
ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরু করার পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম অনেকটা বেড়েছে। সাত বছর পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত প্রতি ব্যারল তেল ৮২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের জুনে তা ১২০ ডলার ছুঁয়েছিল।
২০২২ সালের চার মাসে রেকর্ড ৪২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করার কথা জানিয়েছিল আরামকো। ঐ সময়ই বিশ্বব্যাপী তেলের দাম সবচেয়ে বেশি ছিল। সূত্র: আল আরাবিয়া