সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গঙ্গার ধারে এক ব্যক্তিকে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে আসে দুই ব্যক্তি। যথারীতি চিতাও জ্বলে। তবে সবই ছিল নাটক। ছবি তোলার পর পোড়ানোর নাম করে ওই ব্যক্তিকে আড়াল করা হয়। যা তাকে (ধর্ষককে) মৃত ঘোষণার প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়।
ওই ধর্ষকের নাম নিরাজ মোদি। বয়স ৩৯। তিনি একটি সরকারি স্কুলের শিক্ষক। আর তার কথিত শেষকৃত্যে হাজির হওয়া বাকি ব্যক্তির মধ্যে ছিলেন, তার বাবা রাজারাম মোদি ও একজন স্থানীয় কৃষক।
.png)
আরো পড়ুন>> মার্কিন বিমান ঘাঁটির নিকটবর্তী জাপানি দ্বীপ কিনে নিলেন চীনা তরুণী
ছেলের শেষকৃত্যের ছবি নিয়ে আদালতে হাজির নিরাজের বাবা রাজারাম দাবি করেন, গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে মারা গেছে।
এই ঘটনায় নিরাজকে গ্রেফতারও করা হয়। তবে দুই মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পায় ওই স্কুল শিক্ষক।
এরপর গত বছর নিরাজের মৃত্যুর নাটক সাজানোর পরই স্থানীয় প্রশাসন নিরাজ মারা গেছে মর্মে সনদ প্রদান করে। আর সেই সনদের ওপর ভর করেই মামলার ইতি টানে আদালত।
তবে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির মায়ের কাছে নিরাজের মৃত্যুর ঘটনাটি সাজানো নাটক মনে হয়। ওই নারী বলেন, ‘যখন আমি শুনলাম নিরাজ মোদি মারা গেছে, আমি জানতাম এটা মিথ্যা। আমি জানতাম সে বেঁচে আছে।’
এরপর শুরু হয়ে ব্যক্তিগত অনুসন্ধান। আর সেই অনুসন্ধানে নিরাজের মৃত্যুর ঘটনার কোনো প্রমাণ পান না ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির মা। তিনি আবার আদালতে যান, দাবি জানান পুনঃতদন্তের। আদালত নিরাজ যে বেঁচে আছে এই মর্মে প্রমাণ দাবি করে।
আরো পড়ুন>> মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স, ঠেলাগাড়ি ঠেলে বাবাকে হাসপাতালে নিল ৬ বছরের শিশু
এই ঘটনার তদন্ত করা কর্মকর্তা জানান, ‘নিরাজের মৃত্যুর বিষয়ে এমনকি তার স্বজনরাও কিছুই জানে না।’ এ বিষয়ে নিরাজের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
তদন্তে উঠে আসে নিরাজের মৃত্যুর ঘটনাটি সাজানো। এরপর নিরাজের মৃত্যু সনদও প্রত্যাহার করা হয়।
গেল বছরের জুলাই মাসেই ফের চালু হয় ধর্ষণ মামলাটি। একই বছরের অক্টোবরে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন নিরাজ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাকে দোষী সাবস্ত্য করে ১৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। করা হয়েছে তিন লাখ রুপি জরিমানা। এছাড়াও প্রতারণার ও অসততার অভিযোগেও সাজা হতে পারে নিরাজের। তার বাবাকেও একই কারণে আনা হয়েছে আইনের আওতায়।