ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ তথ্য প্রযুক্তি ]

এআই বিনিয়োগে ধাক্কার আশঙ্কা, নড়বড়ে প্রযুক্তি বাজার

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৪৭, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এআই বিনিয়োগে ধাক্কার আশঙ্কা, নড়বড়ে প্রযুক্তি বাজার
ছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কিছুটা কমিয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান ঘিরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে এআই অবকাঠামো নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ব্যয় কমে গেলে শেয়ারবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন এআই নেতা প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি কিছুটা কমিয়ে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য বাড়তি সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Advertisement

গত কয়েক বছরে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর এআই ডেটা সেন্টার ও অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে এআই অবকাঠামো খাতে ব্যয় প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, এই ব্যয়ের গতি কমে গেলে এআই চিপ, সার্ভার, ডেটা সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থার কোম্পানিগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

হরাইজন ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী চাক কার্লসন বলেন, শুধু আলোচনা নয়, বিনিয়োগের প্রকৃত গতি কমছে কি না, তা বোঝার জন্য অর্ডার বাতিল বা ডেটা সেন্টার নির্মাণের চুক্তি স্থগিতের মতো বাস্তব প্রমাণ প্রয়োজন।

চাপে সেমিকন্ডাক্টর শেয়ার

ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা প্ল্যাটফর্মস ও ওরাকলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৬ সালে মূলধনি ব্যয় হিসেবে প্রায় ৭৯৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে পারে। ২০২৭ সালে এই ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ০৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।

এই বিপুল ব্যয়ের বড় অংশই যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা ও এআই অবকাঠামো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। ফলে এআই বিনিয়োগের গতি নিয়ে সামান্য সংশয় তৈরি হলেও এসব কোম্পানির শেয়ারে তার প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়ছে।

সোমবার ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। যদিও ২০২৬ সালে সূচকটি এখনো প্রায় ৬০ শতাংশ ঊর্ধ্বে রয়েছে।

অ্যারেনা প্রাইভেট ওয়েলথের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা এরিক ক্রাটজ বলেন, এআই সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমে গেলে এআই অবকাঠামোর সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে এআই নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য কাঠামো তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো বিনিয়োগের ওপর ইতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে।

এআই উদ্বেগের সঙ্গে বাড়ছে সুদের চাপ

এআই খাত নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগকে অনেক বিনিয়োগকারী ২০২৫ সালের শুরুর দিকের বাজার অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করছেন। সে সময় চীনের ডিপসিক এআই মডেল আত্মপ্রকাশের পর এআই অবকাঠামোয় বিপুল ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সেই ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

এবার প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি ছাড়াও সম্ভাব্য সরকারি নিয়ন্ত্রণ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নতুন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় রয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকস অলটারনেটিভসের বৈশ্বিক প্রাইভেট ইকুইটি বিভাগের সহপ্রধান মাইকেল ব্রুন বলেন, বিনিয়োগকারীরা এআই খাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়বে নাকি কমবে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কী হবে এবং প্রযুক্তিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—এসব বিষয় মূল্যায়ন করছেন। তবে তার মতে, এআই খাতের মূল অংশে এখনো বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এদিকে এআই নিয়ে সংশয় বাড়ার সময়েই উচ্চ বন্ড ইল্ড, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কা বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

মাইন্ডসেট ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জেমস হামফ্রিস বলেন, এআই চিপ ও অবকাঠামো কোম্পানির শেয়ারে দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত বিনিয়োগের প্রত্যাশা তাদের মূল্যায়নে ইতোমধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বিনিয়োগের গতি কমার সামান্য ইঙ্গিতও বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!