ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ তথ্য প্রযুক্তি ]
ঘূর্ণিঝড় রেমাল

কাদা-মাটিতে শুয়ে আছে মা-সন্তান, ভাইরাল ছবিটি আসল না নকল?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৪২, ২৮ মে ২০২৪
কাদা-মাটিতে শুয়ে আছে মা-সন্তান, ভাইরাল ছবিটি আসল না নকল?
বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির ভেতর কাদা-মাটিতে সন্তানকে জড়িয়ে মায়ের শুয়ে থাকার সেই ভাইরাল ছবি

দেশের উপকূল ও স্থলভাগ জুড়ে তাণ্ডব চালানো ঘূর্ণিঝড় রেমালের মধ্যেই এক মা ও শিশুর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বিধ্বস্ত ঘর-বাড়ির ভাঙা অংশের ভেতর কাদা-মাটির মধ্যে সন্তানকে জড়িয়ে শুয়ে আছেন মা। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও আইডিতে ছবিটি শেয়ার করা হয়েছে এবং অনেকেই দাবি করছেন ছবিটি ভোলার চরফ্যাশন থেকে তোলা। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

ফ্যাক্ট চেকিং নেটওয়ার্ক রিউমর স্ক্যানার জানায়, রেমালের তাণ্ডবে চরফ্যাশনের কর্দমাক্ত স্থানে মা ও সন্তানের যে ছবিটি প্রচারিত হচ্ছে তা বাস্তব নয়। গত মার্চ থেকেই ছবিটি ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে, যা এআই দিয়ে তৈরি।

মা ও শিশুর সেই ছবিটি শেয়ার হয় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজে

Advertisement

রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে তায়েফ রাব্বানী নামে বাংলাদেশি এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ক্যাপশনে ছবিটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। পরে ৩ থেকে ৭ মার্চ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের (ইউটিউব, এক্স, ফেসবুক) একাধিক অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। গত মার্চে ভারতের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ‘নিউজমোবাইল’ও ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বলে জানায়।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক এডিটর কদরুদ্দীন শিশির এক ফেসবুক পোস্টে জানান, ছবিটি এআই জেনারেটেড বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের সাহায্যে বানানো। ওই পোস্টে ছবিটির দুটি অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, ছবিতে যে মা রয়েছেন তার এক পায়ে ছয়টি আঙুল, আর এক হাতে চারটি আঙ্গুল।

অন্যদিকে নির্মাতা পিকলু চৌধুরী পৃথক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এই ছবিটা আমার এলাকা ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার বলা হচ্ছে ... ছবিটা অনেক সুন্দর কিন্তু ছবিটা ফেক! এআই দিয়ে তৈরি করা ছবি। ফেক ছবি দিয়ে একটি মানবিক বিষয়ে ভাইরাল হওয়ার নেশায় মেতে উঠেছি আমরা ...।

মার্চ মাস থেকেই ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভাইরাল ছবিটি

ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে দেশে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ঝড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোয় ৩৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ ঘরবাড়ির। সব মিলিয়ে ঝড়ে উপকূলের ৩৭ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ। ভেসে গেছে শত শত ঘের-পুকুরের মাছ। আর জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। এছাড়া রেমালের প্রভাবে দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!