ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতি বৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে নির্মিত হয়েছে অনেক সিনেমা। হলিউড, বলিউডের পাশাপাশি পর্দায় এসেছে বাংলাদেশের বেশকিছু চলচ্চিত্র।
১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’। ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ, সেই জাহাজের দুই যাত্রী নিজেদের খুঁজে পায় একটি দ্বীপে- এমন গল্প নিয়েই সাজানো হয় এ সিনেমা। এতে বুলবুল আহমেদ ও জয়শ্রী কবিরের অনবদ্য অভিনয় ইতিহাস হয়ে আছে। সিনেমাটি চারটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।
.png)
আবদুল্লাহ আল মামুন নির্মাণ করেন ‘সারেং বৌ’। ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের গল্প তুলে ধরা হয় এ সিনেমায়। অভিনয় করেছেন ফারুক, কবরী, আরিফুল হক, জহিরুল হক, বিলকিস, বুলবুল ইসলাম, ডলি চৌধুরীসহ আরো অনেকে। ১৯৭৮ সালে সিনেমাটি আলো ছড়ায় প্রেক্ষাগৃহে।
১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর শতাব্দীর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। এই মর্মান্তিক কাহিনি নিয়ে মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন ‘দুখাই’ চলচ্চিত্রটি। এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম ব্যাহত হয়েছে। অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ। এটি ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায়।
পরিচালক খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’ সিনেমায় উঠে এসেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যা ছবির নাম করণেই তা স্পষ্ট হয়েছে। সাতদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার সময়টাকে বোঝাতে দেশের উত্তরাঞ্চলে ‘সাঁতাও’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সাঁতাওয়ের সময়ে কৃষিনির্ভর সমাজে কেমন প্রভাব ফেলে, কৃষকদের সংগ্রামী জীবন এবং প্রান্তিক পটভূমি থেকে নারীদের সর্বজনীন সংগ্রাম ও প্রান্তিক মানুষের জীবনের কাহিনি কেন্দ্র করে গণ-অর্থায়নে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে সিনেমাটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এতে অভিনয় করেছেন আইনুন পুতুল, ফজলুল হক, শ্রাবণী দাস রিমি, সাবেরা ইয়াসমিনসহ অনেক নতুন মুখ।
২০২২ সালে মুক্তি পায় ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ ছবিটি। এখানে ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবিকার সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার কাহিনি দেখানো হয়েছে। এটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মুহাম্মদ কাইয়ুম। অভিনয় করেছেন- জয়িতা মহলানবিশ, উজ্জ্বল কবির হিমু, সুমি ইসলাম, সামিয়া আকতার বৃষ্টি, বাদল শহীদ, মাহমুদ আলম ও আবুল কালাম আজাদ।
২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর একটি মূল ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন প্রান্তিক জেলেপল্লীর জীবন চিত্রায়িত হয়েছে ‘নোনাজলের কাব্য’ সিনেমায়। এতে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেদের দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম, প্রতিকূল আবহাওয়ায় টিকে থাকার লড়াই, জেলে সমাজের রীতিনীতি স্থান পেয়েছে। যেখানে ঘূর্ণিঝড় দানা বেঁধে থাকার পরও দরিদ্র জেলেদের বিপদসংকুল সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে হয় প্রভাবশালীদের চাপে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, তিতাস জিয়া, তাসনুভা তামান্না, শতাব্দী ওয়াদুদ প্রমুখ।