২০২৬ সালে Nature Communications–এ প্রকাশিত একটি র্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে ৩১৫ জন নিষ্ক্রিয় প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে এ গবেষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবারই পেটের অতিরিক্ত চর্বি ছিল। গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, একই পরিমাণ সাপ্তাহিক ব্যায়াম ভিন্ন দিনে ভাগ করে করলে ফলাফলে কোনো পার্থক্য হয় কি না।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ সপ্তাহে এক দিন ব্যায়াম করেছেন। অন্য অংশ সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়াম করেছেন। দুই দলের জন্যই সপ্তাহে মোট ইন্টারভ্যাল ট্রেনিংয়ের সময় ছিল ৭৫ মিনিট। পাশাপাশি একটি নিয়ন্ত্রণ দলের অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা দেওয়া হয়।
.png)
এক দিনে ৭৫ মিনিট, নাকি তিন দিনে ভাগ করে?
সপ্তাহে এক দিন ব্যায়াম করা দলের অংশগ্রহণকারীরা এক দিনে তিনটি ২৫ মিনিটের ব্যায়াম সেশন সম্পন্ন করেন। প্রতিটি সেশনের মধ্যে ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের বিরতি ছিল। অর্থাৎ পুরো ব্যায়ামের সময় একসঙ্গে না করে একই দিনে কয়েকটি ভাগে সম্পন্ন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সপ্তাহে তিন দিন ব্যায়াম করা দল প্রতিদিন একটি করে ২৫ মিনিটের সেশন করেছে। ব্যায়ামের মধ্যে ছিল কঠোর পরিশ্রমের সময় এবং অপেক্ষাকৃত সহজ গতিতে পুনরুদ্ধারের পর্যায়। প্রশিক্ষণ ছিল তত্ত্বাবধানে এবং অংশগ্রহণকারীদের ধীরে ধীরে নির্ধারিত পূর্ণ মাত্রার ব্যায়ামে অভ্যস্ত করা হয়। ওয়ার্ম-আপ ও কুল-ডাউনও ছিল কর্মসূচির অংশ।
তবে দুই ধরনের সূচির কার্যকারিতা যে সমান গবেষণাটি তা প্রমাণ করেনি। অর্থাৎ সপ্তাহে এক দিন ব্যায়াম করলেই তিন দিন ব্যায়ামের সমান ফল পাওয়া যাবে, এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ফিটনেসেও উন্নতি
শুধু শরীরের চর্বি কমানো নয়, দুই ব্যায়ামকারী দলেরই অ্যারোবিক ফিটনেস নিয়ন্ত্রণ দলের তুলনায় উন্নত হয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট কাঠামোয় নিয়মিত ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং শরীরের কার্ডিওভাসকুলার সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যায়ামের সাপ্তাহিক মোট পরিমাণ। এখানে অংশগ্রহণকারীরা সপ্তাহে মোট ৭৫ মিনিটের প্রশিক্ষণ করেছেন। তাই ফলাফলকে ‘সপ্তাহে এক দিন কয়েক মিনিট ব্যায়াম করলেই শরীরের চর্বি কমবে’ এভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
গবেষণাটি বরং দেখিয়েছে, কেউ যদি সপ্তাহের ব্যস্ততার কারণে ব্যায়ামকে এক দিনে কেন্দ্রীভূত করতে চান, সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মোট ব্যায়ামের সময় নিশ্চিত করা গেলে তাতেও উপকার পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো ধারাবাহিকতা। কারও জন্য সপ্তাহে কয়েক দিন অল্প অল্প করে ব্যায়াম করা সহজ হতে পারে, আবার কারও জীবনযাত্রায় এক দিনে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। তবে উচ্চতীব্রতার ব্যায়াম শুরু করার আগে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।
গবেষণাটির বার্তা তাই সহজ ব্যায়ামের জন্য সপ্তাহের প্রতিটি দিন সময় বের করা সম্ভব না হলেও হাল ছেড়ে দেওয়ার কারণ নেই। তবে সপ্তাহের মোট ব্যায়ামের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: Siu PM, et al. Nature Communications. 2026;17:1410.
লেখক : রাইসা মেহজাবীন, ফিটনেস পুষ্টিবিদ
বি.এসসি (অনার্স), ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এমপিএইচ (চলমান), পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
পিজিটি (Nutrition and Fitness Training), Inspiron Fitness & Diet Consultancy Center,
Specialized in Fitness Nutrition Training, Nutrition Solutions
ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ও ফিটনেস কোচ, Inspiron Fitness & Diet Consultancy Center, ধানমন্ডি ব্রাঞ্চ
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), Nutrition for Change