ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

ডিটক্স নয়, সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

এস এম মুকুল এস এম মুকুল
প্রকাশিত: ১৬:০৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিটক্স নয়, সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
পুষ্টিবিদ লিনা আকতার, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

শরীরকে সুস্থ রাখতে আমরা অনেক সময় নানা ধরনের ‘ডিটক্স’ বা শরীর পরিষ্কার করার পদ্ধতির কথা শুনি। কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের শরীরকে আলাদা করে কোনো কঠোর ডিটক্স প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয় না। শরীরের নিজস্ব কিছু ব্যবস্থা রয়েছে, যা প্রতিদিন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করতে কাজ করে।

তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় কঠোর ডিটক্সের পেছনে ছোটা নয়, বরং নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত ঘুম
সুস্থ থাকার জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অথচ এটি আমাদের সবচেয়ে বেশি অবহেলিত অভ্যাসগুলোর একটি। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত ও পুনরুদ্ধার করে। একই সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা, মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ঘুম ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে প্রভাব পড়তে পারে—
* শরীরের কর্মশক্তিতে
* মেজাজ ও মানসিক অবস্থায়
* মনোযোগ ও একাগ্রতায়
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায়
* ক্ষুধা ও খাবার গ্রহণের নিয়ন্ত্রণে
তাই প্রতিদিন নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

Advertisement

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
সুস্থ শরীরের জন্য নিয়মিত নড়াচড়া অত্যন্ত প্রয়োজন। শারীরিক কার্যকলাপ রক্তসঞ্চালন, হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য, বিপাকক্রিয়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি মেজাজ ও কর্মশক্তি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। এর জন্য প্রতিদিন কঠোর ব্যায়াম করতেই হবে—এমন নয়। আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই সহজ কিছু কাজও উপকারী হতে পারে। যেমন—

হাঁটা
*  স্ট্রেচিং বা শরীর প্রসারিত করার ব্যায়াম
*  সাইকেল চালানো
*  নাচ

শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত থাকা। একদিন অনেক ব্যায়াম করার চেয়ে প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শরীরকে সক্রিয় রাখা বেশি কার্যকর।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীর ও মন—দুটোর ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ঘুম, হজম, কর্মশক্তি ও সামগ্রিক সুস্থতাকে ব্যাহত করতে পারে।
মানসিক চাপ কমাতে আপনি চেষ্টা করতে পারেন—
* প্রতিদিন কিছু সময় বাইরে বা প্রকৃতির মধ্যে কাটানো
* গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
* নিজের অনুভূতি লিখে রাখা বা জার্নালিং করা

প্রার্থনা বা ধ্যান করা
* কাছের ও সহায়ক মানুষের সঙ্গে কথা বলা
* অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমানো
মনে রাখতে হবে, মানসিক সুস্থতাও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ডিটক্স ট্রেন্ড কেন বিভ্রান্তিকর হতে পারে?
বাজারে অনেক ডিটক্স পণ্য ও বিশেষ ডায়েট দ্রুত ওজন কমানো বা শরীর পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এসবের সবগুলোর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। কিছু ডিটক্স পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে শরীরের পানি কমে ওজন কমতে পারে। আবার অতিরিক্ত খাবার নিয়ন্ত্রণ বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে দুর্বলতা, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

অতিরিক্ত বা কঠোর ডিটক্সের ফলে হতে পারে—
* শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়া
* পানিশূন্যতা
* প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি
* খাবারের প্রতি অস্বাস্থ্যকর মানসিকতা তৈরি হওয়া
* পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা
তাই স্বাস্থ্যকর শরীর গড়তে সাময়িক ও চরম কোনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করাই ভালো।

তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, প্রতিদিনের অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ
সুস্থ থাকার জন্য সবকিছু একসঙ্গে পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
যেমন—
* পর্যাপ্ত পানি পান করুন
* সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান
* নিয়মিত শরীরচর্চা বা হাঁটাহাঁটি করুন
* পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমান
* মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন
* অতিরিক্ত বিধিনিষেধ বা চরম ডায়েট এড়িয়ে চলুন
* খাবার ও জীবনযাপনে ভারসাম্য বজায় রাখুন

আমাদের শরীর প্রতিদিন নিজস্ব প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় বর্জ্য পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণ করে। তাই শরীরকে ‘ডিটক্স’ করার জন্য কঠোর বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন নেই।
বরং শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সুষম পুষ্টি, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, ভালো ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তি।

লেখক : পুষ্টিবিদ লিনা আকতার
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার দিনাজপুর।
হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার 01736019637, Emailঃ linatsh73241@gmail. Com

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-F-01
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!