স্লিপিং টেস্ট এবং জুয়েল আইচ
কে আমার নিদ্রাঘুম টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দিচ্ছে-
রাত্রির ভেতর,
স্বপ্নের ভেতর,
এবং অন্ধকারের ভেতর?
যে হাসপাতালে শুয়ে আছি,
ইয়াং স্ট্রিটের ওপাশে ট্রেনের গ্যারেজে বগিগুলো ঘুমের মতোই
খন্ড খন্ড টুকরো টুকরো।
টুকরো টুকরো বগিগুলো নিশিডোম এসে
একটার সঙ্গে আরেকটা জুড়ে দিচ্ছে
মালা গাঁথছে।
.png)
হয়তো সকাল হলে কেউ
আমার নিদ্রাহীন ঘুমগুলো মালা গাঁথবে।
কিন্তু কে! মোয়াজ্জিম, ডাক্তার?
জুয়েল আইচ যেভাবে বিপাশাকে কেটে কেটে
খন্ডিত করে জাদুবিদ্যার মারফতিতে
ঠিক তেমনি কে যেন
আমার ঘুমগুলোর হাতপা অসংখ্য তার-কাটাতার দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধছে, মব স্টাইলে
কাটছে, কেটে কেটে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে।
সিসি ক্যামেরার চোখ শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তের অক্সিজেন,
হৃদস্পন্দন, মন ও মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে
আর আমি ঘুম থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি-
আমি আমার চিন্তা আলাদা হয়ে যাচ্ছে
আমি আমার নাই থেকে নাই হয়ে যাচ্ছি।
আমার চেতনা
আলাদা হয়ে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে দূরত্ব
আমি আমার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি।
আমি কি আমাকে আর কখনো চিনতে পারবো?
ভোর বা তার একটু আগে সোবহে সাদেকে
হয়ত আমাকে অন্ধকার থেকে টেনে বের করে আনবে
মোয়াজ্জিম, ডাক্তার।
হয়তো আমার ছিন্নভিন্ন টুকরো-টুকরো ঘুম,
ছিন্ন ছিন্ন ঘুম ঘুম ঘুমন্ত চেতনা, বিচ্ছিন্ন চিন্তা,
সব খুচরো জোড়া দিয়ে
আবার আমাকে একটি টাকা বা ট্রেন বানিয়ে দেবে।
আইচের মন্ত্র মেশানো লাল রুমাল ছাড়াই
হয়তো আবার
আমাকে জোড়া লাগাবে।
আমাদের জন্মের আগে একদিন জুয়েলকে
প্রশ্ন করেছিলাম-
হে গৌরাঙ্গ লাল, তুমি কত রঙ্গ জানো
তুমি নুনকে চিনি বানাও, চিনিকে বানাও চাল।
চালভাত।
হে দাদা, তুমি ধাঁধায় ভাঙা কাঁচের স্বপ্ন জোড়া দিতে পারো,
টুকরো মানুষকে আবার পরিপূর্ণ করে পূর্ণতা দাও
অসীম ক্ষমতায়।
অথচ সোনার বাংলাকে সোনার বাংলাদেশ
বানাতে পারো না! হে ব্যর্থ বীর।