গরুর গোশত খান নির্দিষ্ট পরিমাণে
গরুর গোশত যতই সুস্বাদু খাবারই হোক না কেন, তা খাওয়ার সময় একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ খাওয়া উচিত।
এই গরুর গোশতের উপকারি ও ক্ষতিকর দুইটি দিকই আছে। পরিমিত পরিমাণে সঠিক ভাবে খেলে এর থেকে যেই পরিমাণ পুষ্টি পাওয়া যায় তার সমপরিমাণ অন্য কিছু থেকে পাওয়া কঠিন।

গোশত প্রধানত প্রোটিন জাতীয় খাদ্য। প্রোটিন হলো অ্যামিনো এসিড মোলিকিউলের একটি নির্দিষ্ট গঠন। অ্যামিনো এসিডের অনেকগুলো ধরণ শরীর নিজে উৎপন্ন করতে পারে না। প্রাণীজ খাদ্যে সাধারণত প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে। এবং প্রাণীজ খাদ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় সকল দরকারি অ্যামিনো এসিড থাকে। ডিআরআই বা ডায়েটারি রেফারেন্স ইনটেক অনুযায়ী শরীরের ওজনের প্রতি কেজির জন্য প্রতিদিন ০.৮ গ্রাম প্রোটিন দরকার। তবে এই প্রোটিন শুধু মাংস থেকে নয়, ডাল, মাছ, বাদাম, শস্য সবকিছু থেকে হওয়া উচিত।
কি পরিমাণ খাওয়া উচিত:
দৈনিক গরুর গোশত খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হলো, ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম। আপনি যদি ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম চর্বি ছাড়া গরুর গোশত খান তাহলে এটা থেকে আপনার দৈনিক ক্যালরির চাহিদার মাত্র ১০% ক্যালরি আসবে। (৩ আউন্স মাংসে আছে ২০০ ক্যালরি এবং দৈনিক ক্যালরি চাহিদা ২০০০ ক্যালরি ধরে)। সাধারণৎ ঘরে রান্না করা ৩ টুকরা মাংসেই ৩ আউন্স হয়ে যায়, আর যেহেতু খাবার সময় সাধারণত ৩ টুকরার বেশিই খাওয়া হয়, এজন্য সবচেয়ে ভালো হলো সপ্তাহে দুই দিন এর বেশি গরুর গোশত না খাওয়া।

গরুর গোশতের কোলেস্টেরল এর মাত্রা:
৩ আউন্স গোশতে কোলেস্টেরল এর মাত্রা ৫৩ মিলিগ্রাম। একজন সুস্থ মানুষের কোলেস্টেরল এর দৈনিক নিরাপদ মাত্রা হলো ৩০০ মি.গ্রা. এবং হার্টের রোগীর জন্য ২০০ মি.গ্রা.। সুতরাং ৩ আউন্স গরুর গোশতে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিরাপদ সীমার অনেক নিচে।
গরু, মহিষ, ছাগল ও খাসির গোশতে থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফ্যাট, তাই অতিরিক্ত পরিমাণে গরুর গোশত খেলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কোলেস্টরেলের মাত্রা বেড়ে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই এসব রোগে ভুগছেন তাদের জন্য ঝুঁকি আরো বেশি।

আর তাই গোশত খাওয়ার সময় অবশ্যই চর্বি ছাড়া এবং পরিমাণ মতো খাওয়া উচিত।
ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে