দুপুরের ভাত ঘুম সুস্বাস্থ্যের দাওয়াই, দাবি গবেষকদের
দুপুরে খাবারের পর একটু ঝিমুনি আসে সবারই। সুযোগ পেলে ঘুমিয়ে নেন খানিক্ষণ। একে ভাত ঘুম বলে অনেকে। এরপর দেখা দেয় অলসতা, শক্তি কম ,অসুস্থতা। তারপরও অনেকের কাছে বেশ প্রিয় দুপুরের ঘুম। দুপুরের ঘুম নিয়ে রয়েছে নানা মহলের নানা মত। কেউ বলেন দরকার আছে, কেউবা বলেন শরীরে জন্য ক্ষতি।
তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, আপনার যদি ৬০ বছর বয়স হয়ে থাকে, তাহলে দুপুরে ২ ঘণ্টা ঘুম খুবই প্রয়োজনীয়। এতে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। ৬০ এর ঊর্ধ্ব যারা দুপুরে ঘুমায় এবং যারা জেগে থাকে কিংবা কাজ করে দুপুরটা কাটায়। তাদের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, ভালো নেই দুপুরে না ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলো।
২২১৪ জনের মধ্যে করা হয় এই সমীক্ষা। তাদের শারীরিক অবস্থা ও রোজনামচা পর্যালোচনা করে এই তথ্য উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৫৩৪ জনের মধ্যে ৬৮০ জন দুপুরে ঘুমান না।
দু-পক্ষই গড়ে প্রতিদিন ৬.৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে থাকেন রাতে। তবে যারা দুপুরে ঘুমাচ্ছেন না তাদের ব্রেন রিফ্রেস হওয়ার বা বিশ্রাম নেয়ার সময় পাচ্ছে না। ফলে কিছুদিন পর অবসাদ, না ভালো লাগা, ক্লান্তিভাব ঘিরে ধরে তাদের। তবে দুপুরে ৫ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে না করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যাহ্নভোজের পর দুপুর ১ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিন দুপুরে ঘুমাতে না পারলেও, সপ্তাহে অন্তত তিনদিন দুপুরে ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। যারা দুপুরে বাড়িতে থাকেন না। তারা অন্য যে কোনো সময় খানিকক্ষণ একটু বিশ্রাম নিন। কাজের ফাঁকে আপনার ব্রেনের এবং মনের কিছুটা রিফ্রেস করতে পারবেন। এতে কাজে মন বসবে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো হবে।
গবেষকদের মতে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিটের ভাতঘুম আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দিনের বেলা একটু ঘুমিয়ে নেয় তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে। দুপুরের খাবারের পর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের ঘুম হৃদযন্ত্রের কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা, হরমোন ব্যবস্থাপনা এবং কোষ পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-নাসার এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা ৩০ মিনিটের ঘুমে বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের উন্নতি হয় ৪০ শতাংশেরও বেশি। দিনের ভাতঘুম এবং রাতের পর্যাপ্ত ঘুম ব্যায়ামেও উৎসাহ জোগায়।