১৮ বা তদূর্ধ্ব প্রায় ৩০.৪% মানুষ আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন
আর্থ্রাইটিস কেবল সামান্য জয়েন্ট ব্যথা বা অস্বস্তির বিষয় নয়; পরিসংখ্যান অনুযায়ী: আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ২৪.৮% কোনো না কোনো মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন।
একইসঙ্গে প্রায় ২৪.৪% রোগী বছরের কোনো না কোনো সময় সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারান। আর একজন কর্মক্ষম মানুষ যখন কাজ করার ক্ষমতা হারান, তখন কেবল তার আয়ই বন্ধ হয় না, বরং তার ভবিষ্যৎ জীবনের অনেক সুন্দর স্বপ্নও থমকে যায়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭১ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস ও মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশেও আর্থ্রাইটিস আজ এক আশঙ্কাজনক জনস্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে।
- গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০.৪% মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাস্কুলোস্কেলেটাল বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন, যার মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি।
আর্থ্রাইটিস বলতে মূলত অস্থিসন্ধির প্রদাহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এসব রোগে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, ফোলা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্থিসন্ধির শক্তভাব বেশি অনুভূত হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী লক্ষণ ও জটিলতা ভিন্ন হতে পারে। শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই নন, শিশু-কিশোর ও তরুণদেরও কিছু ধরনের আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
প্রতি বছর ১২ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস (World Arthritis Day)। আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের সমস্যা তুলে ধরা এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব বোঝানোই এই দিবসের মূল লক্ষ্য।
ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউমাটোলজির (ইউলার) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে দিবসটি চালু হয়। বিশ্বজুড়ে এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর রোগের প্রভাব তুলে ধরাও দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
আর্থ্রাইটিস কী, কেন হয়?
- আর্থ্রাইটিস বলতে মূলত জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির প্রদাহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগকে বোঝানো হয়। এ ধরনের সমস্যায় জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, শক্তভাব এবং স্বাভাবিক নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিংবা দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকার পর জয়েন্টের শক্তভাব বেশি অনুভূত হয়।
তবে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ এক রকম নয়। রোগের ধরন অনুযায়ী উপসর্গ, তীব্রতা ও জটিলতার পার্থক্য দেখা যায়। কিছু রোগে জয়েন্টের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গও আক্রান্ত হতে পারে। শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই নন, শিশু-কিশোর ও তরুণদেরও কিছু ধরনের আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়েন্টে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা বা শক্তভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, জয়েন্টের ক্ষতি কমানো এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সচল রাখা সম্ভব। রোগের ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন চিকিৎসার অংশ হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসা-পরিকল্পনা অনুসরণ করা রোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক। তবে নিজের ইচ্ছায় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়।
সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষার প্রথম ধাপ
- ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউমাটোলজি (ইউলার)-এর তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৬ সালে দিবসটি চালু হয়। বিশ্বজুড়ে বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর এসব রোগের প্রভাব তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের মূল বার্তা হলো- জয়েন্টের ব্যথাকে বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা না করা, রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জয়েন্টের ব্যথা সব সময় আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা বা শক্তভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সুস্থ থাকার প্রথম পদক্ষেপ।
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসে সবার অঙ্গীকার হোক- আর্থ্রাইটিসের কারণে কারও জীবন যেন থেমে না যায়। সঠিক চিকিৎসা, সচেতনতা ও সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যমে যেন প্রতিটি আক্রান্ত মানুষকে তাদের ‘স্বপ্ন পূরণের’ পথে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা যায়।