দিয়া মির্জার ভিডিও সরানোয় ক্ষুব্ধ বম্বে হাই কোর্ট
দীপাবলিতে শব্দ ও বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তবে বিজেপি নেতাদের আপত্তির মুখে তাঁর অভিনীত একটি ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেয় বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা (বিএমসি)। এ ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বম্বে হাই কোর্ট।
ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তাদের বিচলিত করেছে। একই সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া সচেতনতামূলক ভিডিওটি আবার প্রকাশের পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে ও বিজেপির সভাপতি অমিত সাটমের আপত্তির পর ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পরিবেশদূষণ রোধে একটি ভালো উদ্যোগকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের সংবিধান ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভিডিওটি পুনরায় প্রকাশ করা উচিত।
বিচারপতি গিরিশ এস কুলকর্নী ও নীলা কে গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, বাজি পোড়ানোর কারণে শব্দ ও বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগে কয়েকজন তারকার অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য আদালতকে বিচলিত করেছে। বিএমসি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ নিয়েছিল। এমন মহৎ উদ্যোগে বিভেদ তৈরির কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।
উৎসবের সময় বাজি পোড়ানোর কারণে দূষণ নিয়ে দায়ের হওয়া স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এসব পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতিরা। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর আদালত বিএমসিকে বিনা পারিশ্রমিকে প্রচারে অংশ নিতে আগ্রহী তারকাদের যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল।
সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পৌরসভা ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানে, অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত ও দিয়া মির্জাকে নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করে। কিন্তু দিয়া মির্জার ভিডিওটি পরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আদালত আরও জানায়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত বিভেদ তৈরি করা উচিত নয়। দেশের সব মানুষ একই বাতাসে শ্বাস নেন। তাই দূষণ রোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিচারপতিরা ভিডিওটি আবার প্রকাশের পরামর্শ দিয়ে বলেন, আদালতের নির্দেশে শুরু হওয়া একটি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে অন্য কোনো বিতর্কের সঙ্গে জড়ানো ঠিক নয়। এক বা দুজনের বিচ্ছিন্ন মন্তব্যের কারণে সামাজিক সম্প্রীতি ও সংবিধানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।