ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

চোখের জলে এফডিসি থেকে প্রবীর মিত্রকে শেষবিদায়

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:০৭, ৬ জানুয়ারি ২০২৫
চোখের জলে এফডিসি থেকে প্রবীর মিত্রকে শেষবিদায়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ‘রঙিন নবাব’ খ্যাত প্রবীর মিত্র। বর্ষীয়ান এ অভিনেতা বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে বিগত কয়েক বছর ছাড়া বাকি জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই কাটিয়েছেন এফডিসিতে। সোমবার দুপুরেও সেই পুরোনো কর্মক্ষেত্র এফডিসিতে এলেন তিনি। তবে একেবারে ভিন্ন চেহেরায়, ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং জীবনে শেষ বারের মতো! 

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা প্রবীর মিত্রের অপেক্ষায় ছিলেন সহকর্মীরা। এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়ক আলমগীর, উজ্জ্বল, ইলিয়াস কাঞ্চন, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, নির্মাতা ছটকু আহমেদ, খোরশেদ আলম খসরুসহ অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী ও এফডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

প্রবীর মিত্রের মরদেহ সামনে রেখে এ সময় তার উদ্দেশ্যে শোক প্রকাশ করেন উপস্থিত সহকর্মী অভিনেতা অভিনেত্রীরা। পরে সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় প্রথম নামাজে জানাজা। গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হন প্রবীর মিত্র। এফডিসিতে প্রথম জানাজা শেষে অভিনেতার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রওনা হয় চ্যানেল আইয়ের উদ্দেশে।

Advertisement

জানা যায়, চ্যানেল আই চত্বরে হবে অভিনেতা প্রবীর মিত্রের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই গুণী অভিনেতা।

বরেণ্য এই ১৯৪০ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে। এরপর স্নাতক সম্পন্ন করেছেন জগন্নাথ কলেজ থেকে।

থিয়েটারে অভিনয়ের মাধ্যমে সংস্কৃতির ভুবনে আসেন প্রবীর মিত্র। ‘লালকুটি’ থিয়েটারে কাজ করেছেন অনেক দিন। এরপর পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। প্রবীর মিত্রের প্রথম সিনেমার নাম ‘জলছবি’।

ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রবীর মিত্র। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’-এর মতো সিনেমায় তিনি ছিলেন নায়ক। এছাড়া ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমাতেও তিনি ছিলেন মূখ্য চরিত্রে।

এরপর ধীরে ধীরে প্রবীর মিত্র মনোযোগী হন চরিত্রভিত্তিক অভিনয়ে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হচ্ছে- ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সীমার’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘অঙ্গার’, ‘পুত্রবধূ’, ‘নয়নের আলো’, ‘জয় পরাজয়’, ‘চাষীর মেয়ে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘আবদার’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়ান’, ‘দেহরক্ষী’, ‘অনেক সাধনার পরে’, ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘মাই নেম ইজ সুলতান’, ‘জিদ্দি বউ’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’, ‘বস নাম্বার ওয়ান’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ ইত্যাদি।

নান্দনিক অভিনয়ের জন্য বরাবরই প্রশংসিত প্রবীর মিত্র। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার পুরস্কার ভাগ্য প্রসন্ন নয়। কেবল ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, রোববার (৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!