চলচ্চিত্রে হতাশার বছরেও আশার আলো দেখালো ‘বিশ্বসুন্দরী’
গেলো কয়েক বছর ধরেই চলচ্চিত্রের শনির দশা চলছে। সিনেমা হল সংখ্যা কমে যাওয়া, সিনেমা মুক্তির সংখ্যা কম, সিনেমাগুলোর লাগাতার ব্যর্থতা, বাংলা সিনেমার দর্শক কমে যাওয়া। সব মিলিয়ে স্বল্পতার মধ্যেই যেন আছে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। বাংলা চলচ্চিত্রের সমৃদ্ধশালী ঐতিহ্য জমজমাট অবস্থা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। সিনেমা বান্ধব সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করেও কোনোভাবেই এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারছেনা। গত বছরের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এই বছরে আশার বীজ বপন করেছিলেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনায় সবকিছুর মতো চলচ্চিত্রেও আঘাত হেনেছে। তাই ধুঁকতে থাকা চলচ্চিত্র করোনায় আরো তলানিতে এসে ঠেকেছে।
চলচ্চিত্রে ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরে থাক, মানুষের বেঁচে থাকাটাই এখন হুমকির মুখে! চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং শোচনীয় একটা বছর ২০২০ সাল পার করলো। যা অতীতে কখনোই এতোটা করুণ অবস্থা দিয়ে যেতে হয়নি। চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে কম সিনেমা মুক্তি পেয়েছে এ বছর। করোনায় লকডাউনের জন্য অন্যান্য সব কিছুর মতো সিনেমা হলগুলোও বন্ধ ছিলো প্রায় সাত মাস। তাই স্বভাবতই সিনেমাও কম মুক্তি পেয়েছে। এই বছর দেশীয় চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে ১২ টি, আমদানিকৃত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ২টি এবং যৌথ প্রযোজনার ১টি। এবছর মোট ১৫ টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।
প্রদর্শক সমিতি, হল মালিক, প্রযোজক আর ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে এই বছর শুধুমাত্র মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ আর চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছাড়া বাকিগুলো ব্যর্থতার খাতায় নাম লিখিয়েছে।
.png)
১১ ডিসেম্বর ২৫ টি হলে মুক্তি পায় জনপ্রিয় নাট্যকার চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম পরিচালিত সিনেমা ‘বিশ্বসুন্দরী’। শুরু থেকেই সিনেমাটা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। চয়নিকার চৌধুরীর প্রথম পরিচালিত সিনেমা, সিয়াম-পরীমনি জুটি বেঁধে প্রথমবার অভিনয় সব মিলিয়ে এসব নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিলো তুঙ্গে।
পাশাপাশি সিনেমা মুক্তির আগেই গানগুলো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। রুম্মান রশীদ খানের কাহিনী চিত্রনাট্য ও সংলাপে ‘বিশ্বসুন্দরী’ মুক্তির পর থেকেই হলগুলোতে দর্শকদের ভীড় জমতে শুরু করে। স্টার সিনেপ্লেক্সে টিকেট সংকট দেখা দেয়ায় আলাদা করে বিশেষ প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়। এখনো তৃতীয় সপ্তাহে এসেও হলগুলোতে ‘বিশ্বসুন্দরী’ দেখতে উপচে পড়া ভীড়। দর্শকদের শো দেখাতে হিমশিম খাচ্ছেন হল কর্তৃপক্ষ। ছবিটি দেখে সবাই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে। প্রযোজনা সূত্রে জানা গিয়েছে তারা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য লাভ করেছেন।
সুতরাং বছর শেষে এ কথা বলাই যায় চলচ্চিত্রে হতাশার বছরে আশার আলো দেখালো ‘বিশ্বসুন্দরী’।