সেই শরিফুল এখন পুরোদস্তুর অভিনেতা
‘হু টোল্ড ইউ? অয়েল ইওর ওন মেশিন’, ফ্রিজিং মানে ‘বেসম্ভব ঠাণ্ডা’- কথা গুলো কয়েক আগের মোবাইল মুঠফোন সেবাদান প্রতিষ্ঠান রবির একটি বিজ্ঞাপনের। এই বিজ্ঞাপন দিয়েই আলোচনায় আসেন শিশুশিল্পী শরিফুল ইসলাম। অমিতাভ রেজা নির্মিত রবির এই বিজ্ঞাপনের পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি শরিফুলের। এর পরের গল্প এগিয়ে যাওয়ার।
পর্দায় সব সময় পাকামো করা চরিত্রেই দেখা মেলে শরিফুরকে। তার সঙ্গে পাকামো চরিত্রই মানিয়ে যায়। যখন সংলাপ দেন মনেই হয় না ছোট্ট ছেলেটি অভিনয়ের মাঝে রয়েছে। একবারের জন্যও এমনটি মনেও হয় না। তার অনবদ্য অভিনয়ের কারণে বরাবরই মনে হয় এ যেনো বাস্তব চরিত্রেই রয়েছে। নাটক, বিজ্ঞাপন কিংবা আয়নাবাজির মতো সিনেমাতেও শরিফুল অনবদ্য।
শরিফুল গাজীপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের বাড়ি মনিপুরের জয়নাকুনি। পরিবারের সবাই শরিফুল নামে ডাকলেও স্কুলের বন্ধুরা বান্টি আর শিক্ষকরা মনা ও বল্টু ডাকে। পড়াশোনার সঙ্গে সমানতালে অভিনয় চালিয়ে যেতে চায় শরিফুল। বড় হয়ে ডাক্তার হবে। প্রিয় তারকা মোশারফ করিম।
শরিফুলরা ছয় ভাই, দুই বোন। হোতাপাড়ার খতিব খামারবাড়ি শুটিং হাউসে তার বাবার দোকান ছিল, প্রায়ই অভিনয় করার লোক সংগ্রহ করে দিতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পালিয়ে দূর থেকে শুটিং দেখত শরিফুল। এভাবেই তার পরিচয় হয় চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামানের সঙ্গে। তার মাধ্যমে পরিচালক গিয়াসউদ্দিন সেলিমের সঙ্গে কাজের সুযোগ পায় শরিফুল।
গিয়াসউদ্দিন সেলিমের বেশ কয়টি কাজ করার পর অমিতাভ রেজা চৌধুরীর রবির বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়ে রাতারাতি পরিচিতি পায় সে। বর্তমানে পুরোদস্তুর অভিনেতা সে। ওয়েব, টিভি প্রযোজনা আর বিজ্ঞাপনচিত্রে তার বেশ কদর। তাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে নাটক আর স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির গল্প। এ পর্যন্ত অভিনয় করেছে ২০টির মতো সিনেমায়। মাসের বেশির ভাগ সময়ই শুটিংয়ে তার শিডিউল দেয়া থাকে তার।