ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সেবা হবে প্রযুক্তিনির্বভর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:০১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সেবা হবে প্রযুক্তিনির্বভর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সমস্ত পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী দুই বছরের মধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিশ্চিত করতে তা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় ‘উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তর’ শীর্ষক এক বিশেষ পরামর্শক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি খাতের শিক্ষক, গবেষক এবং ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই কর্মশালায় অংশ নেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই, উপযুক্ত নেটওয়ার্ক এবং প্রয়োজনীয় আইটি সহায়তার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ফি প্রদান, হলের সিট বরাদ্দ এবং চূড়ান্ত সনদ সংগ্রহ পর্যন্ত সমস্ত সেবা অনলাইনে রূপান্তর করার কাজ চলছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আর বারবার ক্যাম্পাসে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন বা ফি জমা দিতে হবে না।

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বাড়াতে পাঁচ বছরের মধ্যে সব গ্র্যাজুয়েটের জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে ড. মামুন আহমেদ বলেন, এ উদ্দেশ্যে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের চাহিদার কথা জানাবে এবং বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর বা সেবা সংস্থাগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থী গ্রহণ করবে। ইউজিসি দুই পক্ষের মধ্যে সুষম সমন্বয় করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দক্ষ শিক্ষক ও জনবলের ঘাটতি মেটাতেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে যোগ্য শিক্ষকের সংকট রয়েছে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট কিংবা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাসের সঙ্গে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা যেতে পারে। এছাড়া বিদেশে থাকা বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষকদের অভিজ্ঞতাকেও এই কার্যক্রমে কাজে লাগানোর চিন্তা চলছে।

প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়াতে একটি সমন্বিত সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে ইউজিসি প্রধান বলেন, এর মাধ্যমে উপাচার্যগণ এক ক্লিকেই বিভিন্ন বিভাগের কাজের অগ্রগতি মনিটরিং করতে পারবেন। তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে সফটওয়্যার তৈরি করে অপচয় না করে, বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোর যথাযথ সমন্বয় করার জন্য আইটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়েছেন তিনি। পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্ক এবং ক্লাউড স্টোরেজের সমন্বিত উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!