ঢাকা,  বুধবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই উপজেলায় পৌঁছাবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই উপজেলায় পৌঁছাবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই পৌঁছে দিতে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্র জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ছাপাখানায় প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ছাপাখানা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে বই গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

Advertisement

এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনসিটিবি ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ৫৩টি মনিটরিং দল মাঠে কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই ইতোমধ্যে বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা বলেন, এ বছর পাঠ্যবইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মান ঠিক না থাকায় বিপুলসংখ্যক ফর্মা ও বই বাতিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নির্ভুল পাঠ্যবই উপজেলাগুলোতে পৌঁছে দিতে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি কাজ করছে। এবার বই গ্রহণের সময় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পরও মানে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনসিটিবির ২২ সেপ্টেম্বরের উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে।

এবার গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে থেকেই বই ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি বা ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে।

প্রাথমিক স্তরের ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি বা ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরের ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি বা ৭ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে।

এনসিটিবির বিতরণ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রাক-প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে বাঞ্ছারামপুর, সরাইলসহ কয়েকটি উপজেলায় বই সরবরাহ শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ বই জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১১৩টি প্রেসের মধ্যে বর্তমানে ৯১টি প্রেসে বই ছাপার কাজ চলছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বড় প্রেসগুলোতে জেনারেটর ব্যাকআপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বইয়ের কাগজের জিএসএম ও মুদ্রণমান যাচাইয়ে প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) এজেন্সির পাশাপাশি ল্যাব টেস্ট করা হচ্ছে। র‌্যান্ডম ভিত্তিতে নয়টি প্রেসের কাগজের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করা হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, সবগুলো নমুনাই মানসম্মত পাওয়া গেছে।

পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণ ও সরবরাহে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা কিংবা কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এনসিটিবির বিশেষ টিমের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও মাঠে রাখা হয়েছে। এনসিটিবির ৩৩টি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাতটি মনিটরিং টিম প্রেসগুলোতে নজরদারি করছে। এ ছাড়া এনসিটিবির সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে আরও পাঁচটি বিশেষ টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

মনিটরিং কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত প্রেসে অবস্থান করে মুদ্রণকাজ তদারকি করছেন। বইয়ের কাগজের উজ্জ্বলতা ৮৫ শতাংশসহ অন্যান্য মানদণ্ডও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে নিম্নমানের কাগজে ছাপা বই গ্রহণ করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ শেষ করতে প্রেস মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা যেন নতুন শ্রেণির পূর্ণ সেট বই হাতে পায়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!