ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ঈদের ছুটিতে বেরোবি ক্যাম্পাসে নীরবতা, বাড়ির পথে শিক্ষার্থীরা 

সাইফুল্লাহ মাসুম, বেরোবি প্রতিনিধি   
প্রকাশিত: ২২:৪৪, ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতে বেরোবি ক্যাম্পাসে নীরবতা, বাড়ির পথে শিক্ষার্থীরা 
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রতিদিনের ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে ঈদের ছুটি উপভোগ করতে এরইমধ্যে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওয়া দিয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এর অনেক শিক্ষার্থী, আবার কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের ব্যস্ত জীবন কাটানোর পর এই সময়টিকে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে গত ০৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অন্যতম উপলক্ষ। তাই বছরের এই সময়টিতে তারা যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরতে চায়।তবে কিছু শিক্ষার্থী বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন।

Advertisement

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী অরূপ রায় বলেন, বাসায় আসার পর থেকে মনটা একদম ভালো নেই, কেমন জানি একটা শূন্যতা কাজ করছে। সাধারণত সবাই বলে তারা বাসা মিস করে, কিন্তু আমি উল্টো ক্যাম্পাস মিস করছি। বাসার এই শান্ত পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে, বারবার মনে হচ্ছে ক্যাম্পাসেই ভালো ছিলাম।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ক্যাম্পাস পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে পড়েছে। সবাই নাড়ির টানে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছে পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে। বেরোবি ফাঁকা ক্যাম্পাসে আজ শূন্যতা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যে ক্যাম্পাসের প্রাণ আজ এই শূন্যতা সেইটা-ই প্রমাণ করে। সবাই একটা সুন্দর সময় কাটানোর পর নিরাপদে ক্যাম্পাসে ফিরুক এটাই কামনা করি। সবাইকে জানাই ঈদের মুবারকবাদ। ঈদ মুবারক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ইলাহী হলের অবস্থান করা চাকুরি প্রত্যাশী মুজাম্মেল হক বলেন, আমাদের পরিবার মধ্যবিত্ত। পরিবার থেকে প্রত্যাশা থাকে, পড়াশোনা শেষ করে দ্রুত কিছু একটা করতে হবে। ঈদের আবেগ থাকলেও এখন সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের পরপরই কয়েকটি চাকরির পরীক্ষা আছে, তাই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, বাসায় গেলে সবাই জানতে চায়, চাকরি কবে হবে। এই প্রশ্নের উত্তর না থাকায় অনেক সময় নিজেকেই অস্বস্তিতে পড়তে হয়। তাই এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রস্তুতি নিয়েই এগোব।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান করা আবাসিক হলের শিক্ষার্থী, জরুরি ও নিরাপত্তা সেবায় নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্য এবং ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য চারটি খাসি ক্রয় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঈদের দিন সকালে সেমাই ও দুপুরে একসঙ্গে খাবার খাবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!