ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

নোবিপ্রবিতে ছুটি শুরু, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৯, ১১ মার্চ ২০২৬
নোবিপ্রবিতে ছুটি শুরু, নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন শিক্ষার্থীরা
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ব্যাগ কাঁধে, হাতে ছোট ট্রাভেল ব্যাগ- সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। সেহরি শেষে ভোরের আলো ফোটার আগেই ক্যাম্পাস ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ বাসের সময়সূচি দেখছেন, কেউ ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। আবার দীর্ঘ ছুটিতে বাড়ি ফেরার আগে অনেককে বন্ধুদের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে, আড্ডা দিতে এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা গেছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহিদ মিনার ও গ্যারেজ এলাকায় এমন দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো। জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি জরুরি সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হওয়ায় দীর্ঘ ২০ দিনের ছুটি পেয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাস ছেড়ে শিক্ষার্থীরা পরিবার ও গ্রামীণ জীবনের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা–মা, ভাই–বোন ও স্বজনরা। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ি ফিরছেন তারা।

তবে চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে চাপ, হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেও রমজান মাসে দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারায় কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

Advertisement

বাড়ির পথে ছুটে চলা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়ি ফেরার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলা বিভাগের বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আফিফ বিন সায়েদ বলেন, ‘ঈদে বাড়ি যাওয়া মানে স্রেফ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া নয়; এটি হলো স্মৃতির আঙিনায় ফিরে আসা। নাগরিক জীবনের ইট-পাথরের ক্লান্তি পেছনে ফেলে আমরা যখন গ্রামের ধুলোমাখা পথে দাঁড়াই, তখন প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাই। পরিবারের অকৃত্রিম ভালোবাসার সান্নিধ্য আমাদের সবটুকু অবসাদ ধুয়ে দেয়। হারানো শৈশবকে বন্ধুদের আড্ডায় খুঁজে পাওয়া আর পরিবারের সঙ্গে ঈদের চাঁদ দেখার যে আনন্দ, তা অন্য কোনো উপায়েই সম্ভব নয়। পরীক্ষা শেষে তাই বাড়ি ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি।’

শিক্ষা বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী মনজিলা আকতার বলেন, ‘দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার পর বাড়ি ফিরে যাওয়ার যে সুপ্ত অনুভূতি, সেটা প্রকাশ করার মতো সুন্দরতম ভাষা আমার জানা নেই। গ্ৰামের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা আমিটা যখন এই কোলাহল পরিবেশে এসে হঠাৎ থমকে যাই, সবকিছু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। পড়ন্ত বিকেলে মনে পরে যায় বাড়ি ফেরার সেই চিরচেনা পথগুলো। সেই পুরোনো ঘর, রাস্তার ধারের প্রতিটা গাছ যেন বলে ওঠে আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম। ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা মনে ভাসলেই মনটা প্রফুল্ল হয়ে ওঠে, ঠিক তার বিপরীতে সীমিত সময় শেষ করে ইট পাথরের শহরে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবলেই মন বিষাদে ভরে ওঠে। এতো বিষাদের মধ্যে ও শেষ সময়ে বলতে ইচ্ছা করে আমি আবার আসিব ফিরে তোমার টানে।’

ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী রেজভী খান বলেন, ‘ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের পূর্ণতা প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্যে। পরীক্ষা আর ক্যাম্পাসে যান্ত্রিক ব্যস্ততা পেছনে ফেলে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের রান্না ও প্রিয়জনদের হাসিমুখের যে তৃপ্তি, তা শব্দে বোঝানো কঠিন। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগই ঈদকে সার্থক করে তোলে। সবার যাত্রা নিরাপদ হোক এবং ইদ বয়ে আনুক অনাবিল প্রশান্তি।’

একই বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী নসিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে শহরে কর্মরত, অধ্যয়নরত অসংখ্য মানুষ পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যায়। সরকারি নানান উদ্যোগে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যাতায়াত ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করা, ভাড়ায় বিশেষ ছাড় এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগীয় বাস সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন।’

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী আরজিনা আক্তার নিপা বলেন, ‘পরিবার ছেড়ে ক্যাম্পাস লাইফে রমজান কাটানোর একাকিত্ব ও আম্মার হাতের রান্নার অভাববোধ করেছি, হলের বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে ইফতার-সাহরি ভাগাভাগি করার নতুন আনন্দ আর ব্যস্ততার মধ্যে নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার এক মিশ্র অনুভূতি শেষে এখন বাড়ির পথে হাঁটছি। মনে বেশ আনন্দ হচ্ছে।’

বাংলা বিভাগের ২০২১ -২২ সেশনের শিক্ষার্থী মো. রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘মুসলিমদের জন্য এই মাসটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাহে রমজানে মনটা অন্যরকম ভালো লাগায় ভরে যায়। ইবাদতেও শান্তি পাই, ভেতরটা যেন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। যদিও বা সেমিস্টার ফাইনালের জন্য এত দিন বেশ চাপ অনুভুত হয়েছে। অন্যদিকে খুব তাড়াতাড়ি বাসায় যাওয়ার আনন্দও কাজ করছে। ঈদ তো সামনেই… সব মিলিয়ে মনটা এখন অন্য রকম এক অনুভূতিতে ভরা।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!