ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
বিশ্ব পরিবেশ দিবস

বাকৃবি যেন প্লাস্টিক আর পলিথিনের ভাগার

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি
প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ৫ জুন ২০২৩
বাকৃবি যেন প্লাস্টিক আর পলিথিনের ভাগার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জব্বারের মোড়, কে আর মার্কেট, ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, শেষমোড়, ফসিলের মোড়, ইয়াসিন মার্কেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫টি হল কিংবা আবাসিক এলাকা- সর্বত্রই প্লাস্টিক কিংবা পলিথিনময়। বাকৃবির এমন দৃশ্য দেখলে মনে হবে, এ যেন প্লাস্টিক- পলিথিন আর ময়লা ফেলার ভাগার।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে অবস্থিত আব্দুল জব্বার মোড়, কে আর মার্কেট, ফসিলের মোড়, শেষ মোড়ে থাকা দোকানগুলোতে বাজার করতে গেলে তাদের ধরিয়ে দেওয়া হয় প্লাস্টিক কিংবা পলিথিনের তৈরি ব্যাগ। রেস্তোরাঁর খাবার পার্সেল নেয়ার সময়ও ভাত, তরকারি ও অন্যান্য খাবারগুলো পলিথিন ব্যাগে পার্সেল করে দেওয়া হয়। এছাড়াও ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ফলের জুসের দোকান, সবজির দোকান, মুদি দোকানে হর-হামেশাই ব্যবহৃত হচ্ছে পলিথিন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা বলছেন, পলিথিন বা প্লাস্টিক মাটির সঙ্গে মিশে না। যার ফলে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও পলিথিনগুলো মাটি ও পরিবেশ দূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা। 

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজার কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ নাহিদ হাসান জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে দোকানের সংখ্যা প্রায় ৩০০টি। এর মধ্যে পণ্য বিপণনে সরাসরি পলিথিনের ব্যবহার করে ২০০টির অধিক দোকান। প্রতিটি দোকানে গড়ে ১-১.৫ কেজি পলিথিন ব্যবহার করে। সে হিসেবে বাকৃবি ক্যাম্পাসেই বছরে ১০৮টন পলিথিন ব্যবহার হয়। আর এসব পলিথিন কিংবা পলিথিনজাত দ্রব্য ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সবুজতা নষ্ট করছে।’

সেইভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশের চেয়্যারমান আ. ন. ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘২০০২ সালে আইন করে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনে বলা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিনসামগ্রী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দণ্ডও হতে পারে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য পলিথিন পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এটির ব্যবহারে প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বাকৃবি কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে আমার তেমন রোগ হতো না। কিন্তু এখন প্রায়ই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। আমার মনে হয়, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহারের কারণেই রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এছাড়াও প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারণেই বাকৃবির পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ও সবুজতা হারিয়ে ফেলছে।’

ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক ও পলিথিনের অবাধ ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার নির্বাহী মেডিকেল কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘পলিথিন পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর এটা সবারই জানা, তারপরও অবাধে এটি ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবহারের পর এগুলো যখন পোড়ানো হয় তখনো এটি বায়ু দূষণ করে। দীর্ঘদিন পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে, পেটের পীড়া, চর্মরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। পলিথিন ব্যবহার বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরো কঠোর হতে হবে বলে আমি মনে করি।'

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!