এ সমস্যার সমাধানে ধান শুকানো ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে যান্ত্রিকীকরণের আওতায় নেওয়ার জন্যে কাজ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোস্ট হারভেস্ট লস রিডাকশন ইনোভেশন ল্যাবের (পিএইচএলআইএল) একদল গবেষক। উদ্ভাবন করেছে বিএইউএসটিআর ড্রায়ার। ড্রায়ারের মাধ্যমে রোদ বা বৃষ্টি যেকোনো সময়েই এবং যেকোনো জায়গায় এমনকি ঘরের বারান্দাতেও ধান শুকানো যায় খুব সহজেই।
প্রকল্পটির রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ও বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, আমাদেরও দেশে-বিশেষ করে বোরো মৌসুমে হঠাৎ বৃষ্টি, ঝড় এবং অতিবৃষ্টির কারণে ধান শুকানোতে বেগ পেতে হয় কৃষকদের। আবার শুকাতে না পারলে নষ্ট হয়ে যায় ধান। কৃষকের এই দূর্ভোগ কমাতেই কম সময়, কম খরচ ও কম কায়িক শ্রমে ধান শুকানোর জন্য আমরা এই ড্রায়ারের উদ্ভাবন করেছি। এলপিজি গ্যাসচালিত আমাদের ড্রয়ারে ধানের মধ্যে বাষ্প প্রবাহিত করা হয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য সেন্সর ব্যবহার করা হয়। বীজ ধানের জন্য এই তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি এবং খাবার ধানের জন্য ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা হয়।
.png)
_1684745930.jpg)
পিএইচএলআইএলের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ও বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আধুনিক, যান্ত্রিক এবং বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। নিজ উৎপাদনশীলতা এবং বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। ধান লাগানো, কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই এসব কাজে যন্ত্রের ব্যবহার কায়িক শ্রম ও সময় বাঁচায় প্রায় শতকরা ২০ ভাগ। আমরা গবেষণায় দেখেছি যে শুধুমাত্র ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই এবং শুকানোতে প্রায় শতকরা ১৫ ভাগ ধান অপচয় হয়।
এক্ষেত্রে ধান শুকানোর জন্য আমাদের উদ্ভাবিত বিএইউএসটিআর ড্রায়ার ব্যবহারে অপচয় কমিয়ে আনা সম্ভব। এভাবে আমরা শুধু ধানের ক্ষেত্রে ধরলে অন্তত ৭ মিলিয়ন টন ধান রক্ষা করতে পারি। আগামীতে আমাদের বাড়তি জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের খাবার আমার এই অপচয় রোধ করেই জোগাড় করতে পারি। কাজেই যেসব ক্ষেত্রে যন্ত্রায়ণ কম হয়েছে সেদিকে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে তবেই আমরা দেশের খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব।