ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বিমূর্ত চিত্রে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ

আশিক ইসলাম, রাবি
প্রকাশিত: ১১:৫১, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
বিমূর্ত চিত্রে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশের দেয়াল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

হরেক রকমের রঙ আর তুলির ছোঁয়ায় রঙিন ক্যানভাস। লাল, সবুজ, হলুদ, বেগুনিসহ নানা রঙে দেয়াল পেয়েছে নতুন রূপ। যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে। এই বুঝি বিমূর্ত চিত্রগুলো নীরবতা ভেঙে বলে উঠবে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে।’ এমনই সব চিত্রের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তি সংগ্রামের নানান চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণের পশ্চিম পাশের দেয়ালে।

একুশে ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে দুই বছর আগে অঙ্কন করা হয়েছে এই দেয়ালচিত্রটি। বিশাল এই চিত্রটি দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী। এ যেন তুলির আঁচড়ে কোনো গল্পঘাঁথা। যা মনে করিয়ে দিচ্ছে দেশভাগ থেকে শুরু করে ৫২’র ভাষা আন্দোলনসহ ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বের এবং পরবর্তী সময়ের মুহূর্তগুলো। এ যেন ইতিহাস বইয়ের প্রাণবন্ত পাতা। যেখান থেকে যে কেউ সহজেই পড়ে নিতে পারবে সুদূর অতীতের ইতিহাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, দেয়ালের পরতে পরতে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। চিত্রকর্মটিতে বামপাশে শুরুর দিকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের সময়কালের ভয়াবহতা। পরবর্তীতে আছে শহিদ মিনারের চিত্র। মাঝ বরাবর মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীদের বর্বরতার দৃশ্য, এরপরেই বাঙালির কাঙ্খিত বিজয় অর্জনের প্রতিচ্ছবি। আর সবশেষে ডানপাশে বই বুকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া শিশুদের নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আবহমান দৃশ্যাবলী। যা রঙিন ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

Advertisement

রাবির সেই দেয়াল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চিত্রকর্মটি তৈরি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের একঝাঁক শিক্ষার্থী। তারা হলেন- শামীমা আক্তার বন্যা, প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী, রায়হান আহমেদ, সুভাষ পাল, সৌমিত্র কুমার। 

বিশাল এই দেয়ালচিত্রটির খসড়া তৈরি করেন রাবির চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শামীমা আকতার বন্যা। তিনি বলেন, চিত্রকর্মটিতে দেশ ভাগের পূর্ব থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়কাল ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 

দেয়ালচিত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক। তিনি বলেন, দেয়ালচিত্রটি অনুধাবন করলে দেখা যাবে ১৯৫২ সালে যে ভাষার জন্য বাঙালিদের বুকের তাজা রক্ত ঝরেছিল, সেই ভাষায় রচিত বই এখন আমরা বুকে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাই। গৌরবের ইতিহাসকে এই দেয়ালচিত্রতে ধাপে ধাপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চিত্রটির বামপাশ থেকে যদি দর্শনার্থীরা দেখা শুরু করেন তাহলে ডান পাশে যেতে যেতে চিত্রকর্মটির প্রেক্ষাপট জেনে ফেলবে। চিত্রকর্মটিই দর্শনার্থীকে বলে দিবে কিসের বার্তা বহন করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রোকেয়া আমিন সুমি বলেন, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। শহিদ মিনারের পাশে দেয়ালের ক্যানভাসে তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যা মনে করিয়ে দেয় আমাদের বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম। 

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী লাবনী আক্তার বলেন, দেয়ালচিত্র আমাদেরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এখানে আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তারুণ্যের প্রতিরোধ, রক্তঝরা আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!