ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ির কারখানা করতে চায় টয়োটা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২৫, ৩ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ির কারখানা করতে চায় টয়োটা
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের গাড়িশিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি আধুনিক থ্রি-এস (সেলস, সার্ভিস ও স্পেয়ার পার্টস) সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা রয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে কেন্দ্র দুটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলোতে গাড়ি বিক্রি, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও আসল যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। এগুলো চালু হলে বাংলাদেশে টয়োটার সরাসরি কার্যক্রম শুরু হবে।

সরকারের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সহযোগিতা পেলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগোতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

টয়োটার সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন গাড়ির ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, দেশে গাড়ি সংযোজন শুরু হলে আমদানিসংশ্লিষ্ট খরচ কমতে পারে। এতে ক্রেতাদের জন্য গাড়ির দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি আসল যন্ত্রাংশ ও উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়াও সহজ হবে।

ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসির সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও টয়োটা গাড়ির ব্যবহারকারী মো. আবু ইউসুফ বলেন, দেশে হাইব্রিড গাড়ি সংযোজন করা হলে আমদানিসংশ্লিষ্ট ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গাড়ির দাম ক্রেতাদের নাগালে আসতে পারে। পাশাপাশি আসল যন্ত্রাংশ ও পেশাদার বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া সহজ হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি থ্রি-এস সেন্টার চালু হলে ক্রেতাদের আস্থাও বাড়বে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও এসএমএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, টয়োটার সম্ভাব্য বিনিয়োগ দেশের উদ্যোক্তা, গাড়ি ব্যবসায়ী, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও দক্ষ জনশক্তির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

তাঁর মতে, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে আধুনিক গাড়িশিল্প গড়ে তোলার পথ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংযোজিত টয়োটার গাড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হলে দেশটি আঞ্চলিক গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সরকারি নীতিসহায়তা, আকর্ষণীয় কর ও শুল্কসুবিধা, দক্ষ জনশক্তি এবং সহযোগী শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেনের মতে, বাংলাদেশ থেকে টয়োটার গাড়ি রপ্তানি শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক গাড়ি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!