ঢাকা,  শনিবার   ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘ধরলার ভাঙন হামার শান্তি নষ্ট কচ্ছে’

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১৯:০৫, ২২ আগস্ট ২০১৯
‘ধরলার ভাঙন হামার শান্তি নষ্ট কচ্ছে’
ডেইলি বাংলাদেশ

‘ধরলার ভাঙন হামার শান্তি নষ্ট কচ্ছে। আগত হামরা অনেক শান্তিতে ছিলং। এলা চোখত আর ঘুম নাই। বসতভিটা, ঘরবাড়ি সগই ধরলা নদী ভাঙিয়া নিয়ে গেছে। এলা অন্যের জাগা খুঁজি নিয়ে বাঁচি আছি।’

বলছিলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর বড়ভিটা ইউপির বাঘ খাওয়া চর গ্রামের আফতার আলী।

সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাঘ খাওয়া চর গ্রামের ধরলার ভাঙনে ১১টি পরিবারের বসতভিটা, ২০০ বিঘা জমি ধরলা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

Advertisement

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন খয়মুদ্দিন, আফতার আলী, ইসমাইল হোসেন, হাফেজ আলী, শহিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলাম, রহম আলী, রফিকুল ইসলাম, হারেজ আলী ও আশরাফ আলী। এছাড়াও ধরলার ভাঙনের মুখে পড়েছেন আরো কয়েকটি পরিবার।

ভাঙন কবলিত পরিবারের সদস্য মালেকা বেগম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, অনেক কষ্টে আছি। যেটুকু জমি-জমা ছিল ধরলা সব ভেঙে নিয়ে গেছে। আমরা এখন কোথায় যাবো, কি খাবো তা ভাবতে পাচ্ছি না। আমাদের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

বানেছা বেগম জানান, আমরা অসহায় হয়েছি। রাততে ঘুমবার পাই না। চিন্তায় আমাদের চোখে ঘুম নাই। আশ্রয়ের জায়গার অভাবে থাকার ঘর ও আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছি। আমাদের এই কষ্ট দেখার জন্য এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ কেউ আসেনি। কেউ সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। তিনি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সাহায্যের দাবি জানান।

ভাঙনমুখী রফিকুল ইসলাম জানান, আমার বসতভিটা থেকে ধরলা নদী আগে ২০০ গজ দূরে ছিল। এবারের বন্যা থেকে ভাঙন শুরু হওয়ার পর ২০০ গজ দূরের ধরলা নদী গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আমার বসতভিটাসহ ১১টি পরিবারের সবকিছু গিলে ফেললো।

আশরাফ আলী জানান, আমরা ধরলা ভাঙন কবলিত মানুষরা যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী। আমাদের কষ্টের দিক কেউ দেখে না। বুকে পাথর চাপা দিয়ে আমাদের জীবন চালাতে হয়।

বড়ভিটা ইউপির পূর্ব-ধনিরাম ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল হামিদ জানান, তিনি পূর্ব-ধনিরাম গ্রামের বাঘ খাওয়া চর গ্রামের ধরলা ভাঙনের শিকার ১০টি পরিবার। সাহায্যের জন্য তাদের চেয়ারম্যানকে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান খয়বর আলী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, চর মেকলি, পশ্চিম ধনিরাম ও পূর্ব-ধনিরাম মিলে তিনটি ওয়ার্ডের মোট ৪৯টি পরিবারের ধরলা নদীর ভাঙনের শিকার। এসব ভাঙন কবলিত মানুষের সাহায্যের জন্য তালিকা তৈরি করে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসে জমা দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!