অবরোধ প্রত্যাহার, সাজেক ছাড়লেন ১২০০ পর্যটক
রাঙ্গামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ শুরু হয়েছিল। সন্ধ্যায় অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি। একই সঙ্গে আগামী ১২ ও ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
অবরোধের কারণে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সকাল থেকে সাজেকে আটকা পড়েন পর্যটকেরা। একই কারণে পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এর মধ্যে রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ এসকর্টের সহায়তায় সাজেক ছেড়ে যান আটকে পড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটক। একই সময়ে ৫৮টি চাঁদের গাড়িসহ শতাধিক যানবাহনে করে প্রায় এক হাজার পর্যটক নতুন করে সাজেকে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, দুপুরে পর্যটকেরা বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাজেক ছেড়েছেন। পাশাপাশি পর্যটকবাহী আরও যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছে। তবে নতুন করে প্রবেশ করা পর্যটকের সঠিক সংখ্যা তখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক আটকা নেই। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক চলছে।
এর আগে সাজেকে সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সংগঠন দুটি। তাদের দাবির মধ্যে ছিল পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাজেক প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের প্রভাবাধীন এলাকা। সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটিকে ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন বলেও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার দুপুরে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা যৌথ বিবৃতিতে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোর বাজারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি।
রোববার সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন অবরোধের সমর্থকেরা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ এসকর্টে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।
দিনভর অবরোধের পর রোববার সন্ধ্যায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি। পাশাপাশি ১২ ও ১৩ অক্টোবর অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর ফলে সাজেকের পর্যটন ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।