[ দেশজুড়ে ]
গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বেড়েছে ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি
আখাউড়ায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে বেড়েছে ইলেকট্রিক চুলা বিক্রি। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম ও সংকটের কারণে বেড়েছে ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা। রান্নার খরচ সামলাতে না পেরে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঝুঁকছেন (ইলেকট্রিক) বিদ্যুৎ চালিত চুলার দিকে। একই সঙ্গে বাসা বাড়িতে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাইস কুকার, কারি কুকার ও প্রেসার কুকার মেরামত করাতেও ভিড় করছেন অনেকে। এতে ইলেকট্রিক চুলার বিক্রির পাশাপাশি বেড়েছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামতের কাজও।
পৌর শহরের সড়ক বাজার বিভিন্ন ইলেকট্রনিকসের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক চুলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে পছন্দের চুলা দেখছেন এবং দাম যাচাই করে কিনছেন। তবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো দোকানে প্রয়োজন অনুযায়ী চুলা সরবরাহ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যাওয়া ও সরবরাহে সংকটের কারণে ইলেকট্রিক চুলার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। আগে যে পরিমাণ চুলা বিক্রি হতো, বর্তমানে তার তুলনায় বিক্রি অনেক বেড়েছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মডেলের চুলার দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে রান্নার মতো নিত্য প্রয়েয়াজনীয় কাজে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত চুলা কিনছেন।
গ্যাস সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নানা অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে। দ্রæত বাজার তদারকি জোরদার, নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে গ্যাসের বাড়তি খরচ এড়াতে অনেকে ঘরে থাকা পুরোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মেরামতের দোকানে রাইস কুকার, কারি কুকার ও প্রেসার কুকার মেরামত করতে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা এসব সরঞ্জাম মেরামত করে আবার রান্নার কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন তারা।
সরেজমিনে পৌর শহরের সড়ক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলেকট্রিক চুলার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। অনেকেই পরিবারের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী চুলা কিনছেন। তবে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার শুরু করলেও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।
গৃহিণী ফেরদৌসী বেগম বলেন, পরিবারে সদস্য কম থাকায় বাড়িতে মাটির চুলায় তেমন রান্না হয় না। নিয়মিত গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। বেশ কিছুদিন ধরে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এতে রান্না করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে একটি ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি। যে চুলা আগে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটি ৪ হাজার ২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মো. মিলন বলেন, “সরকারের নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে গ্যাস কিনতে গিয়ে রান্নার খরচ বেড়ে গেছে। তাই বিদ্যুৎচালিত চুলা কিনতে এসেছি। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ৪ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে একটি চুলা কিনেছি। আমার কাছে চুলাটির দাম অনেক বেশি মনে হয়েছে।”
শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, “আমাদের এলাকায় গ্যাসের সংযোগ নেই। রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু গ্যাসের সংকট থাকায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি। তবে এতে বিদ্যুৎ বিলও বাড়বে। সব মিলিয়ে সংসারের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
মো. লিমন মিয়া বলেন, “আমাদের বাড়িতে একটি রাইস কুকার বেশ কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে ছিল। এখন গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় সেটি মেরামত করিয়ে আবার ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছি।”
মেরামতকারী মো. বাবু মিয়া বলেন, “বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা রাইস কুকার ও কারি কুকারের হিটিং কয়েলসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত করতে প্রতিদিনই লোকজন আসছেন। আমরা সেগুলো মেরামত করে দিচ্ছি। কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। তবে কাজের তুলনায় মজুরি তেমন পাওয়া যায় না।”
পৌর শহরের সড়ক বাজারের মহসিন ইলেকট্রনিকসের মালিক মো. জুনায়েদ মিয়া বলেন, “গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে দিনে দু-একটি চুলা বিক্রি হতো। এখন সপ্তাহে ১৫ থেকে ১৬টি চুলা বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চুলা খুঁজছেন। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বিক্রি আরও বাড়ত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রান্নার জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি দামের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের সংসার খরচে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করা এবং বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা গেলে ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমতে পারে। অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত চুলার ব্যবহার বাড়লেও বিদ্যুতের খরচ বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোকে রান্নার ব্যয় সামলাতে হচ্ছে। তাই জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান সাধারণ মানুষ।
ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
খবরটি শেয়ার করুন:
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!