ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ রাজনীতি ]

জামায়াত ওসমান হাদিকে হুমকি দিয়েছিল : রাশেদ খাঁন

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৩০, ১০ অক্টোবর ২০২৬
জামায়াত ওসমান হাদিকে হুমকি দিয়েছিল : রাশেদ খাঁন
সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদিকে জীবদ্দশায় যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জীবিত অবস্থায় ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেয়নি, অথচ মৃত্যুর পর তাঁকে নিজেদের আদর্শিক নেতা হিসেবে তুলে ধরছে।

শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ওসমান হাদির মতপার্থক্য, তাঁর সমাধিস্থল নিয়ে বিতর্ক এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বক্তব্যসহ একাধিক বিষয় তুলে ধরে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।

রাশেদ খাঁনের দাবি, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওসমান হাদি। ওই আসনে এনসিপির পক্ষ থেকে রিকশাচালক সুজনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে ওসমান হাদির রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী ও বুয়েট শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জুবায়ের ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েম নির্বাচন করবেন বলেও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর জবাবে ওসমান হাদি বলেছিলেন, প্রয়োজনে ৫০০ ভোট পেলেও তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এ বিষয়ে ওসমান হাদির ভাই ওমর হাদি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, ওসমান হাদির প্রতি যাঁরা এখন সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন, তাঁরা তাঁর জীবদ্দশায় রাজনৈতিক অবস্থানকে যথাযথ সম্মান দিয়েছিলেন কি না। তাঁর অভিযোগ, সুজনকে প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা এবং পরে চূড়ান্ত প্রার্থী না রাখার ঘটনাটি ওসমান হাদিকে অবমূল্যায়নের প্রশ্ন তৈরি করে।

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও ওসমান হাদিকে নির্বাচন না করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, জীবদ্দশায় ওসমান হাদি জামায়াত ও এনসিপি—উভয় দলের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন। অথচ মৃত্যুর পর দল দুটি তাঁকে নিজেদের আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করছে।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ওসমান হাদি এনসিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জুলাইয়ের ঐক্য বিনষ্ট এবং আন্দোলনকে কুক্ষিগত করার অভিযোগ তুলেছিলেন। পাশাপাশি জামায়াতকে নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে ওসমান হাদিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ওসমান হাদির রাজনৈতিক সংগ্রামের তুলনা করে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওসমান হাদির সমর্থকদের বিরোধ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

রাশেদ খাঁনের মতে, ওসমান হাদি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক চিন্তাকে আদর্শ হিসেবে ধারণ করতেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতিও তাঁর শ্রদ্ধা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ওসমান হাদিকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে তাঁর প্রতি অসম্মানজনক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তাঁর দাবি, ওসমান হাদিকে বিএনপির মুখোমুখি দাঁড় করানোর কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজারের পাশে ওসমান হাদির সমাধি থাকা নিয়েও বক্তব্য দিয়েছেন রাশেদ খাঁন। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা জাবেরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন মন্তব্যের কারণে সমাধিস্থল নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার একজন ব্যক্তির সমাধিস্থল নিয়ে বিতর্ক করা সমীচীন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, জীবদ্দশায় ওসমান হাদি যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি থেকে মৃত্যুর পর বাবার কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওসমান হাদির তুলনা করার ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, ওসমান হাদি জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনা ধারণ করতেন এবং নজরুলের কবিতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে ওসমান হাদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেছেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নুরুল হক নুর আক্রান্ত হওয়ার পর ওসমান হাদি বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। পরে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নুরুল হক নুরও তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

রাশেদ খাঁনের দাবি, নুরুল হক নুরের বক্তব্যের একটি অংশ কাটছাঁট করে প্রচার করা হয়েছে, যার ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, নুরুল হক নুরের সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনলে ওসমান হাদিকে খাটো করার কোনো উদ্দেশ্য দেখা যাবে না।

বিষয়টি পরিষ্কার করতে নুরুল হক নুরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও জানান, শনিবার সকালে ওসমান হাদির বড় ভাইয়ের সঙ্গে টেলিফোনে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদির ভাইও মনে করেন, একজন মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ওসমান হাদিকে ব্যবহার করছে।

তাঁর মতে, ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হলে তাঁকে দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানকে যথাযথ প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, ওসমান হাদিকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে তাঁর স্মৃতি ও আদর্শকে সম্মান জানানোই সবার দায়িত্ব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!