আখাউড়ায় ফলের বাজারে চড়া দাম, বিপাকে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা
বাজারে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ফলের সরবরাহ থাকলেও চড়া দামের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ফল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। মৌসুমি ফলের পাশাপাশি আমদানি করা ফলের দামও বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী ফল কিনতে পারছেন না। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি ও বয়স্কদের জন্য ফল কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন তাঁরা।
সম্প্রতি পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আপেল, কমলা, আঙুর, ডালিম, পেয়ারা, কলা, পেঁপে, মাল্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। তবে দাম শুনে অনেক ক্রেতাকেই কেনার পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় ফল না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
বাজারে প্রতি কেজি আপেল ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, মাল্টা ৩৫০ থেকে ৪৭০ টাকা, ডালিম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, নাশপাতি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা, ড্রাগন ফল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, কমলা ৪৪০ থেকে ৪৬০ টাকা, আঙুর ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, আম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং পেয়ারা ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ডাবের দাম রাখা হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।
ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ফলের দামও বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে যে পরিমাণ ফল কেনা যেত, এখন একই টাকায় তার তুলনায় অনেক কম ফল পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে গিয়েও বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
বাজারে ফল কিনতে আসা মো. সামসুল আলম বলেন, ‘আমার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাঁকে প্রায়ই ফল খাওয়াতে হয়। কিন্তু বাজারে ফলের দাম অনেক বেশি হওয়ায় কিনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই প্রয়োজন থাকলেও এবার অল্প পরিমাণে ফল কিনেছি।’
মো. বাছির মিয়া বলেন, ‘ফল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনলে কিনতে ভয় লাগে। পরিবারের জন্য ফল কেনা এখন আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে এক কেজি ফল কিনতাম, এখন একই বাজেটে তার অর্ধেক কিনছি।’
মো. এমরান হোসেন বলেন, পরিবারের সবাই ফল পছন্দ করেন। তাই প্রায়ই ফল কেনা হয়। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন প্রয়োজন ছাড়া ফল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে আপেল, আঙুর, কমলা ও ডালিমের দাম বেশি মনে হচ্ছে। তাই এসব ফলের পরিবর্তে মাল্টা, পেঁপে ও পেয়ারা কিনছেন তিনি।
অন্যদিকে ফল বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ছে। এর সঙ্গে পরিবহন, সংরক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হওয়ায় বেশি দামে ফল বিক্রি করতে হচ্ছে তাঁদের।
ফল বিক্রেতা বাহার মিয়া বলেন, পাইকারি বাজারের মূল্য, পরিবহন খরচ, সংরক্ষণ ও অন্যান্য ব্যয় ফলের দামের ওপর প্রভাব ফেলে। আড়ত থেকে বেশি দামে ফল কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘আমরাও চাই কম দামে ফল বিক্রি করতে। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ রয়েছে। সব মিলিয়ে খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।’
এ পরিস্থিতিতে ফলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের মতে, ফলের বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।
ক্রেতারা বলছেন, ফল শুধু শখের খাবার নয়, দৈনন্দিন পুষ্টিরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য ফল কেনা সহজ করতে দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।