ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

হাসপাতালে ভর্তি তরুণীকে শ্লীলতাহানি, ওয়ার্ড বয় পলাতক

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ১০ অক্টোবর ২০২৬
হাসপাতালে ভর্তি তরুণীকে শ্লীলতাহানি, ওয়ার্ড বয় পলাতক
ওয়ার্ড বয় করিম সরকার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় আত্মগোপনে রয়েছেন।

অভিযুক্তের নাম করিম সরকার (২৯)। তিনি উপজেলার কর্ণসূতি গ্রামের আব্দুল কাদের সরকারের ছেলে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তিনি ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওয়ার্ড বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হায়দারপুর গ্রামের ওই তরুণী শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। শনিবার ভোরে করিম নারী ওয়ার্ডে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তরুণীকে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, করিম প্রথমে তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে চান এবং ডেঙ্গু জ্বর হয়েছে কি না, তা জিজ্ঞেস করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাঁর কপাল ও গলায় হাত দেন। পরে পিঠ ও বুকে হাত দিয়ে বলেন, ‘আপনার প্রচুর জ্বর।’ এ সময় তিনি চিৎকার করে মাকে ডাকেন। পরে বিষয়টি কর্তব্যরত নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানান ওই তরুণী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগেও করিমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে সময় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয় বলে সূত্রগুলোর দাবি।

ঘটনার বিষয়ে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রূপালী খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার পর আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। আমাদের নারী কর্মীদের সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটতে পারত।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুল মুকিত বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত তদন্ত দল গঠন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত করিম সরকার আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জরুরি সভায় ব্যস্ত থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ/এমকে
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!