কয়রায় জলবায়ু পরিবর্তনে তীব্র হচ্ছে নিরাপদ পানির সংকট
জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার প্রভাবে খুলনার কয়রায় নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দেশি-বিদেশি জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) কয়রার খান সাহেব কোমর উদ্দিন কলেজে নিরাপদ পানি ও জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) উদ্যোগে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), অ্যাডামস ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা কয়রার পানিসংকট, লবণাক্ততার প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের পানি সংগ্রহের দুর্ভোগ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতও শোনেন।
কর্মসূচিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইউনেস্কো চেয়ার ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবী এবং বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কিবরিয়া অংশ নেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিরাপদ পানির সংকট কেবল পানি পাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, জীবিকা এবং নারী ও শিশুদের অতিরিক্ত শ্রমের বিষয়ও জড়িত। তাই স্থানীয় বাস্তবতা ও মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা গেলে দূরবর্তী উৎস এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ জন্য বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পানির ট্যাংক স্থাপন, জলাধার পুনঃখনন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংরক্ষিত পানির মান পরীক্ষা জরুরি। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। তাদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে সহজলভ্য ও টেকসই পানির উৎস নিশ্চিত করা গেলে উপকূলীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় মানুষের মতামত ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে কয়রাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং জলবায়ুসহনশীলতা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।