ঝালকাঠিতে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আমনের আবাদ, উৎপাদনের আশা ৯৩ হাজার ৫০০ টন
ঝালকাঠিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ ও রোপণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ বছর জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হেক্টর বেশি জমিতে আমনের আবাদ করেছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৬ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৪৬ হাজার ৭৭৪ হেক্টর জমিতে।
এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৭৫০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উফশী জাতের আবাদ ২৪৬ হেক্টর কম হয়েছে।
.png)
অন্যদিকে স্থানীয় জাতের আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার ২২ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে। এ হিসাবে স্থানীয় জাতের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪৮ হেক্টর বেড়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, ঝালকাঠির মাটির ধরন অনুযায়ী স্থানীয় জাতের আমন থেকে হেক্টরপ্রতি গড়ে ১ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন এবং উচ্চফলনশীল জাত থেকে ২ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধান থেকে প্রায় ৯৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হতে পারে।
জেলায় চাষ হওয়া স্থানীয় জাতের আমনের মধ্যে নাকুচি মোটা, মৌলতা, বেতিচিকন, সাদামোটা, লালচিকন, লালমোটা, বাঁশফুল ও অরোগরা উল্লেখযোগ্য। উচ্চফলনশীল জাতের মধ্যে ব্রি-৫২, বিআর-২৩ ও ব্রি-৭৭ জাতের চাষ বেশি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে আমনের ভালো ফলন হবে এবং জেলার খাদ্য উৎপাদনে এ মৌসুমের ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ক্যাপশন: ঝালকাঠিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আমন ধানের আবাদ ও রোপণ শেষ করেছেন কৃষকরা।