দৌলতদিয়ায় মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতা সভা, নিষেধাজ্ঞা মানার আহ্বান
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় জেলে, মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কঠোর নজরদারি ও অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে।
বুধবার দুপুরে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে এ সভা হয়। এতে পদ্মা নদীকেন্দ্রিক জীবিকার সঙ্গে যুক্ত জেলে, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ওসি) ত্রিনাথ সাহার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার মে. রবিউল ইসলাম।
.png)
তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে জেলেদের পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মে. রবিউল ইসলাম আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ যাতে নদীতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য নৌ পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়। ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ সম্পদ সংরক্ষণে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি নিষেধাজ্ঞার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে।
পদ্মা নদী ঘিরে রাজবাড়ীর বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। তাই মা ইলিশ সংরক্ষণের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার ওপরও সভায় জোর দেওয়া হয়।