ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রূপ ফিরে পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী দিঘি

সেলিম রানা, গাজীপুর 
প্রকাশিত: ১৫:১১, ৮ নভেম্বর ২০২৪
রূপ ফিরে পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ী দিঘি
ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল রাজার রাজবাড়ীর দিঘির পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুর মহানগরীর পরিত্যক্ত ও দখলকৃত সরকারি মজা পুকুরগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মহানগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, জলাশয় সংরক্ষণ, অগ্নিকাণ্ডের সময় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ। এই কার্যক্রমে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। 

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফিনের নির্দেশনায় গাজীপুর মহানগরের প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুরে রানী বিলাসমনি বিদ্যালয়ের পাশে ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল রাজার রাজবাড়ীর দিঘির পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। বহুদিন পর পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকার মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুসারে, মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে থাকা সরকারি পুকুরগুলো পরিত্যক্ত এবং দখল হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকায় এসব পুকুরে কচুরিপানা ও আবর্জনা জমে যায়। এই জলাশয়গুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুললে শুধুমাত্র এলাকার নান্দনিকতাই বৃদ্ধি পাবে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পুকুরগুলো উন্মুক্ত জলাশয় হিসেবে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এছাড়াও, ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধে পুকুরগুলো পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Advertisement

প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি পুকুর বাছাই করে তাদের পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার রানী বিলাসমনি বিদ্যালয়ের পাশের ভাওয়াল রাজার রাজবাড়ীর দিঘি পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিনের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া এই পুকুরটি স্থানীয় মানুষদের কাছে ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বহন করে। পুকুরটির পরিষ্কার কার্যক্রমে বিডি ক্লিনের প্রায় সাড়ে ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হন। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে পুকুরটি নতুন করে জীবন্ত রূপ পেতে শুরু করেছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিষ্কার কার্যক্রমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: কায়সার খুসরু এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুকসানা খাইরুন্নেসার উপস্থিতি ছিল। এছাড়াও বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন, পরিবেশ আন্দোলনের গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান ইউসুফ খান, এবং বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দলের গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক এম. আসাদুজ্জামান সাদসহ অন্যান্য পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসব নেতারা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, গাজীপুরের পরিবেশ সংরক্ষণে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. কায়সার খুসরু জানান, জেলা প্রশাসকের পরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে মহানগরীর অন্যান্য পরিত্যক্ত পুকুরগুলোও পুনরুজ্জীবিত করা হবে। পরবর্তী সময়ে পুকুরগুলোর চারপাশে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে এগুলো সংরক্ষণ করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পানি সংকট নিরসন এবং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

পরিত্যক্ত পুকুরগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকাবাসীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং আশা করছে, এ ধরনের উদ্যোগ আরো সম্প্রসারিত হবে। 

স্থানীয় অধিবাসী আব্দুর রহিম বলেন, অনেক দিন ধরে এই পুকুরটি অবহেলিত ছিল। এখন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত, কারণ এটি আমাদের এলাকাকে আরো সুন্দর করবে।

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ কেবল শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে না বরং গাজীপুরের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। এলাকার মানুষ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সহযোগিতায় গাজীপুর মহানগরকে একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী জলাশয়গুলো একসময় ব্যবহৃত হলেও কালের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজ সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। তবে এগুলোকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে পারলে একদিকে শহরের নান্দনিকতা বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এ ধরনের জলাশয়গুলো সংরক্ষণ করা গেলে তা শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে না বরং শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!