যাদুকাটা নদীতে বালু উত্তোলনের অনুমতি তিন মাসের জন্য স্থগিত
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা স্মারকের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলমগীর শাকেরের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রিট আবেদনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া গ্রামের জিনান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ রুবেল আহমেদ আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন। এতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংশ্লিষ্ট শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দুই উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিবাদী করা হয়েছে। তাহিরপুরের তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী নাসির মিয়াকেও বিবাদী করা হয়েছে।
.png)
রিটে গত ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা একটি স্মারকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই স্মারকের মাধ্যমে নাসির মিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার হিসেবে বিবেচনা করে বাংলা ১৪৩৩ সালের অবশিষ্ট সময়ের জন্য যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
রিট আবেদনকারীর অভিযোগ, একই বালুমহালের ইজারা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে বাদ দিয়ে শুধু নাসির মিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত ইজারাদার হিসেবে বিবেচনা করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। এতে সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, ২২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং এর আইনগত কার্যকারিতা কেন থাকবে না।
একই সঙ্গে স্মারকটির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন আদালত। আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ যথাযথভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হবে বলে রিটের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।