সড়কে আটকে প্রসূতি গৃহবধূকে মারধর, হাসপাতাল গেটে নবজাতকের মৃত্যু
মুমূর্ষ অবস্থায় প্রসূতি গৃহবধূকে ইজিবাইকে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন স্বামী। পথিমধ্যে ইট বিছানো ভাঙা সড়কে আড্ডা দিচ্ছিলো বখাটে কয়েক যুবক। তাদের সড়ক থেকে পাশে সরে যেতে বলায় মুহূর্তেই ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধূর স্বামীর ওপর শুরু হয় নির্যাতন। এমন দৃশ্য সইতে না পেরে অসুস্থ গৃহবধু এগিয়ে যান স্বামীকে বাঁচাতে। কিন্তু তাকে নিয়েও শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একপর্যায়ে তার পেটে আঘাত লাগায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু এতেও ক্ষোভ মেটেনি হামলাকারীদের। এরপর প্রসূতির রক্তপাত শুরু হলেও টানা দুই ঘণ্টা সেখানেই আটকে রাখা হয় গৃহবধূ ও তার স্বামীকে। এ সময় বার বার মিনতি করেও ওই বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পাননি মুমূর্ষু নারী।
পরে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর সহযোগিতায় ছাড়া পেলেও হাসপাতাল পর্যন্ত আর পৌঁছাতে পারেননি ওই গৃহবধূ। হাসপাতালের গেটেই বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। কিন্তু নবজাতকটিকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
.png)
উপজেলার চাকামইয়া ইউপির বেতমোর গ্রামের কৃষক হাবিব পাহলানের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী তানিয়া বেগম শনিবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদরা তাকে গুরুতর অবস্থায় ইজিবাইকযোগে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মুন্সিবাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সড়ক আটকে আড্ডা দিচ্ছিলো বখাটে বেশ কয়েক যুবক।
ভাঙা সড়কে ইজিবাইক যেতে না পাড়ায় ওই বখাটাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলেন হাবিব পাহলান। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তার ইজিবাইকের চাবি নিয়ে যায় সড়কে থাকা বখাটেরা। কান্না জড়িত কণ্ঠে হাবিব পাহলান বলেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসতে চেয়ে সড়কে তাদের সাইট দিতে বলেছি। কিন্তু গাড়ির চাবি নিয়ে যায় তারা। পরে চাবি চাইতে গেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহাগ, মামুন ও শাওনসহ আরও কয়েকজন আমাকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এ সময় আমার স্ত্রী ওই অবস্থায় আমাকে বাঁচাতে এলে তাকে নিয়ে ধস্তাধস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে তার পেটে আঘাত লাগে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, এ সময় আমার শ্বশুর দুলাল মেয়ের এমন অবস্থা দেখে কাছে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করে।
তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, মারধর করার সময় আমার স্ত্রী তানিয়া বার বার মিনতি করলেও আমাদের আটক করে নিয়ে যেতে চায় তারা। এরপর দুই ঘণ্টা সেখানেই আটকে রাখে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে গেটের সামনেই বাচ্চা প্রসব করে ওই গৃহবধূ। আমার বাচ্চাটাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেও আর বাঁচানো যায়নি।
চাকামইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর ফকির বলেন, কতগুলো মাদকাসক্ত বখাটের জন্য একটা প্রাণ শেষ হয়ে গেছে। আমি অসুস্থ গৃহবধূ ও তার স্বামী, বাবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছি। তাদের মারপিট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার এহসানুল হক বলেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার অনেক আগেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তাকে আগে নিয়ে এলে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করলে এমনটা নাও ঘটতে পারত। তবে বাচ্চার মা তানিয়া এখন সুস্থ আছেন, তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।