ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা: আসামি রিফাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা: আসামি রিফাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
আসামি রিফাত

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম খলিলের সামনে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জবানবন্দিতে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত আরও ১২ থেকে ১৩ জনের নাম জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। রিফাতের দেওয়া তথ্য যাচাই করে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

Advertisement

এদিকে, একই মামলায় মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন প্রতাপ সরকার (২৮), তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫) ও মো. হাসনাত হাবিব রিফাত।

পুলিশ জানায়, কেএমপি ডিবির একটি দল বরিশালের উজিরপুর থেকে প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করে। তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হল গেট এলাকা থেকে এবং রিফাতকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থেকে এসআরবি-৬ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি ভবনে আজমুল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রাতে মেসে মিল না দিয়ে ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার চুল কেটে দেওয়া হয়।

এ সময় আজমুলের বাবার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে মারধরের পর তাকে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুলের নাম রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিফাতের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!