ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ২

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ২
ছবি: সংগৃহীত

সরকার ঘোষিত জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকরের আগে ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা এবং আগের দামে জ্বালানি তেল বিক্রির দাবিকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর ডিমলায় একটি ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লোহার রডের আঘাতে এক কেমিস্টসহ দুইজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ডিমলা উপজেলার মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান (২৭) নামে এক যুবক গুরুতর অবস্থায় ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণা দেওয়ার পর মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টারে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে কর্মচারীরা চলে যান বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা।

Advertisement

তাদের দাবি, পাম্পের মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও জ্বালানি বিক্রির মেশিনের সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছিল। রাত ১২টার পর নতুন দামে জ্বালানি বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, রাত ১২টার দিকে ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ আলম মেশিনে নতুন মূল্য নির্ধারণের কাজ শুরু করেন। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকেরা আগের নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির দাবি জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে লোহার রড নিয়ে গ্রাহকদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এতে কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও গ্রাহক মাহবুবুর রহমান আহত হন। তাদের মধ্যে মাহবুবুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

পাম্প চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ফিলিং সেন্টারটির কার্যক্রম ও জ্বালানি তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফিলিং সেন্টারটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিলিং স্টেশনের মালিক শাহ আলম। তিনি বলেন, তার ফিলিং স্টেশনে আগের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ ছিল। বরং তার কর্মচারীদের ওপরই আগে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শাহ আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা ফিলিং স্টেশনটির লাইসেন্স বাতিল এবং হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: নীলফামারী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!