ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নদী ভাঙনে বিলীনের পথে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নদী ভাঙনে বিলীনের পথে চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়
সিরাজগঞ্জ চৌহালি উপজেলার খাষকাউলিয়া গ্রামে নদী ভাঙন । ছবি. ডেইলি বাংলাদেশ

যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের পথে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দক্ষিণ খাষকাউলিয়া গ্রামের চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয় ভবন থেকে নদী এখন মাত্র ১৫ ফুট দূরে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙন এখনো অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চৌহালী উপজেলার অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীভাঙনে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জাহাঙ্গীর ফকির, মজিবর রহমান, বাবুল আক্তার ও মোহাম্মদ আলী বলেন, নদীভাঙনে এলাকার মানুষ নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্নও এখন হুমকির মুখে। দূরের কোনো স্কুলে সন্তানদের পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। তাই দ্রুত ভাঙন রোধ করে বিদ্যালয়টি রক্ষার দাবি জানান তারা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল হক বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যালয় থেকে নদী মাত্র ১৫ ফুট দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়ের ভবন নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিতে চারটি গ্রামের নদীভাঙনকবলিত হতদরিদ্র পরিবারের ২৯৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। আশপাশে আর কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে এসব শিক্ষার্থীর জন্য চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ই একমাত্র ভরসা। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ডাম্পিং করা হলে এটি রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, কয়েক দিন আগে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে কে কে পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই পরিস্থিতি চৌহালী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে।

চৌহালী উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবলু বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়েছে। চৌহালী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম যমুনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। দ্রুত জিওব্যাগ ডাম্পিং করে বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে অচিরেই ওই এলাকায় জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হবে। এ ছাড়া ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/সিরাজগঞ্জ
ট্যাগ: সিরাজগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!