ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছাত্রীর মৃত্যু রহস্য : মাদরাসা শিক্ষক আটক, মরদেহ রামেক ফরেনসিকে

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৪২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাত্রীর মৃত্যু রহস্য : মাদরাসা শিক্ষক আটক, মরদেহ রামেক ফরেনসিকে
আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের পর তার মরদেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রামেকে পাঠানো হয়েছে।

নাটোরের গুরুদাসপুরে একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর ১৬ বছর বয়সী এক আবাসিক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের পর তার মরদেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রামেকে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাত ৮টার দিকে মরদেহটি রাজশাহীর ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ওয়াবদা বাজার এলাকার হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার ভেতর থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর শ্যামপুর গ্রাম থেকে হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) মহিলা হাফেজিয়া মাদরাসার সুপার সুলাইমান সরদার (৩৮) ও তার স্ত্রী ওই মাদরাসার শিক্ষীকা মদিনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
তবে তাদের কাছ থেকে ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পায়নি ডিবি। পরে মঙ্গলবার রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

Advertisement

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বলেন, ‘ওই কিশোরীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল মঙ্গলবার দুপুরে।
ময়নাতদন্তের পর আরও আধুনিক পরীক্ষার জন্য মরদেহটি রাজশাহীর ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল মাদরাসা পরিদর্শন করেছেন। নিহত ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাদরাসার সুপার ও এক শিক্ষিকাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রীটির মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় ময়নাতদন্তের পর মরদেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাদরাসার গোসলখানায় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন বলে তার মা জানান। আবার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার দাবিও করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্ত করতেও বাধা দিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা তৈরি করেন নিহত ছাত্রীর মা ও স্বজনেরা। এতে মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ বাড়ে।

নিহত ছাত্রীর মা বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। সেই বিচার আমি আল্লাহর কাছে দিলাম।’

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান মাদরাসাছাত্রীর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরিবারের অসম্মতি থাকলেও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। আরও আধুনিক পরীক্ষার জন্য মরদেহটি ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার পর মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

ডেইলি-বাংলাদেশ/নাটোর
ট্যাগ: নাটোর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!