স্থানীয়রা জানান, কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ভুলে হোসেন আলী নামে ওই বাংলাদেশি ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম ভাওলাগঞ্জে প্রবেশ করেন। সেখানে ভাওলাগঞ্জের মোড়ে এক চায়ের দোকানে চা পানের পর বাংলাদেশি ১০০ টাকার একটি নোট দেন দোকানিকে। দোকানি বাংলাদেশি টাকা দেখে হলদিবাড়ি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে ওই ব্যক্তির বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালি থানার ছেউড়িয়া গ্রামে। তিনি ভারত-বাংলাদেশ উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন। বাংলাদেশি চায়ের দোকান ভেবেই চা পান করতে ভারতে প্রবেশ করেছেন তিনি।
হলদিবাড়ি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ওই বাংলাদেশির কাছ থেকে বাংলাদেশি ৬০০ টাকা এবং ২৩নং রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের ৭ নভেম্বর তারিখের একটি টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হয়।
.png)
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লালন শাহ মাজারের পার্শ্ববর্তী গড়াই নদীর পাড়ে ছেউড়িয়া মন্ডলপাড়া এলাকার মৃত কাসেম আলী ও আনজুমান আরার ছেলে হোসেন আলী। তিনি পেশায় নাপিত। তবে বর্তমানে মানসিক রোগী। মাঝেমাঝেই এক-দুই মাসের জন্য এদিক-ওদিক চলে যান। পরে আবার বাড়ির কথা মনে হলে একাই বাড়ি ফেরেন। তবে সেটা দেশের মধ্যে বলেই চলে আসতে পারেন। এখন ভারতে গিয়ে আর ফিরতে পারছেন না।
ওই এলাকার ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, হোসেন আলী একসময় ঢাকায় সেলুনে কাজ করতেন। পরে ঢাকা থেকে এসে ছেউড়িয়া লালন শাহ মাজারের পাশের একটি সেলুনের দোকানে বেশ কিছুদিন কাজ করার পর ছেড়ে দেন। তারপর শুরু হয় তার মানসিক সমস্যা। এ সমস্যা হওয়ার পর থেকেই তিনি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ান।
স্থানীয় চা দোকানী মেরু মন্ডল বলেন, কয়েকদিন ধরে শুনছি হোসেন আলী অবৈধভাবে ভারতে গেছে। সেখানে গিয়ে চায়ের দোকানে বাংলাদেশের টাকা দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেলহাজতে রয়েছে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ। তাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানাই।
হোসেন আলীর দাদা রিকশাচালক জবেদ মন্ডল বলেন, হোসেন আলী গরিব মানুষ। সরকারি জমিতে একটি টিনের চালা করে বসবাস করে। কী কারণে আর কীভাবে ভারতে চলে গেল, তা তো বলতে পারছি না। তবে তাকে ফেরত চাই।
হোসেন আলীর স্ত্রী শেফালী খাতুন বলেন, আমার স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ। সে নিয়মিত পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার নিয়মিত ওষুধ খাওয়া লাগে। তবে ভারতে কেন ও কীভাবে চলে গেল, বুঝতে পারছি না। আমার এক মেয়ে সুরাইয়া খাতুন (১৮)। মিরপুর উপজেলার হালসায় বিয়ে দিয়েছি। আর একমাত্র ছেলে সুরাইম হোসেন (১২)। তাকে নিয়ে অভাবের সংসারে খুব কষ্ট করে দিনাতিপাত করছি। শেষে উপায় না দেখে শন পাপড়ির কারখানায় প্রতিদিন ২০০ টাকা হাজিরার বিনিময়ে কাজ করে বহু কষ্টে দিন পার করছি। সরকারের কাছে স্বামীকে ফেরত পাওয়ার আবেদন জানাই।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মনজু বলেন, হোসেন আলী একজন হতদরিদ্র মানসিক রোগী। সে বেশ কিছুদিন আগে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেছে। হয়তো ভুলক্রমে চিলাহাটি থেকে সে ভারতে চলে গেছে। সে মানসিক রোগী হলেও কখনো কারো ক্ষতি করেনি। সরকারের মাধ্যমে তার মুক্তি ও বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।