ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

কারখানার ডিএমডিকে পেটানোর মামলায় গ্রেফতার ৭

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২০, ৩০ নভেম্বর ২০২৪
কারখানার ডিএমডিকে পেটানোর মামলায় গ্রেফতার ৭
ছবি: প্রতীকী

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি বন্ধ পোশাক কারখানার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রাফি মাহমুদকে পেটানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে মামলার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের নয়ন বাবু (৩৫), কাজল হোসেন (৩২), কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের রাজীব মিয়া (৪২), সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার নাটোয়ারপাড়া গ্রামের রুবেল রানা (২৮), কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রতিল গ্রামের আশরাফ আলী (৫৪), রংপুর সদর উপজেলার ধাপকেল্লা বন্দর গ্রামের খাদেমুল ইসলাম (৩৭) এবং মুন্সিগঞ্জের টুঙ্গীবাড়ী উপজেলার দ্বিপারা গ্রামের শাহিন দেওয়ান (৫২)।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় মাহামুদ জিনস লিমিটেড নামে পোশাক কারখানায় কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। কারখানার মালিকপক্ষ গত ৯ অক্টোবর নানা সংকটের কারণ দেখিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের লক্ষ্যে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে পাওনা মেটানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকেরা বকেয়া পাওয়ার জন্য কারখানার সামনে জড়ো হন। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ আগেই নোটিশ টাঙিয়ে জানায় যে, পাওনা পরিশোধ সম্ভব নয়। এতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

বিকেলে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি দল শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকেরা ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন এবং মালিকপক্ষের লোকজনকে কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। ডিএমডি রাফি মাহমুদ শ্রমিকদের শান্ত করতে এগিয়ে গেলে উত্তেজিত শ্রমিকদের হামলায় তিনি আহত হন।

রাত ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে রাফি মাহমুদ বাদী হয়ে ১৮ জনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন।

কালিয়াকৈর থানার এসআই আতিকুল ইসলাম রাসেল জানান, মামলার পর রাতেই পুলিশের অভিযানে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না করায় তারা দিশেহারা। তারা মালিকপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চান। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে এমন অস্থিরতা গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতা ও শ্রম আইন মেনে চলা জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে। তবে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। কারখানা মালিকপক্ষ অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে তারা আর্থিক সংকটের কারণে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও শ্রমিকেরা কয়েক দফায় মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছিল। তখন মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে যৌথ আলোচনা করে একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ সময়মতো বেতন দিতে ব্যর্থ হয়। এবারও শ্রমিকেরা নতুন করে আন্দোলনে নেমেছেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা চলছে এবং অতি শিগগিরই সমস্যার সমাধান করা হবে।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের দাবি ন্যায়সঙ্গত। আমরা তাদের সঙ্গে আছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!