ফরিদের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে। মুরগি ক্রয়ের জন্য অটোভ্যানে করে প্রতিনিয়ত তিনি ছুটে চলেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। তারপর বিভিন্ন হাট-বাজারে হাঁস-মুরগিগুলো বিক্রি করেন।
অভাবের সংসারের কারণে লেখাপড়া হয়ে ওঠেনি ফরিদের। সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়ছে। সামান্য পুঁজি নিয়ে এ মুরগির ব্যবসা করছেন ফরিদ। সারাদিন মুরগি সংগ্রহ করে স্থানীয় হোসেনপুর বাজারে নিয়ে বিক্রি করে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন হয় তার। এ দিয়ে তিন সদস্যের সংসার ও ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে নিচ্ছেন। এরমধ্যে নিজে থাকার জন্য বাড়ি তৈরি করেছেন এবং কিশোরগঞ্জ সদরে পাঁচ শতাংশ জায়গা কিনেছেন। শত প্রতিবন্ধকতার ভেতরেও ছেলে হিমেলকে পড়াশোনা করিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফরিদের স্বপ্ন তার ছেলে লেখাপড়া শিখে একদিন অনেক বড় হবে।
.png)
তিনি বলেন, ছেলেমেয়ে যখন লেখাপড়া করতে টাকা চায়, তখন নিজেকে বড় অসহায় মনে হয়। মনে হয়, আমি যেন জগতের একমাত্র ব্যর্থ পিতা। পাঁচ বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়ি। মা-বাবার কাছে চিকিৎসার টাকা না থাকায় আমার চিকিৎসা হয়নি। ফলে পা দুটি বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। সেই ছোট থেকেই খোঁড়া ফরিদ নাম অমার। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মাঝে জীবনের ত্রিশ বছর পার করেছি। কিন্তু কারো দয়া-অনুগ্রহের পরশ পাইনি। কারো কাছে ভিক্ষা চাইতে বা হাত পাততে খুব লজ্জা লাগে। তাই ব্যবসার পথ বেছে নিয়েছি। এ ব্যবসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তবুও অভাবের সংসারে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে দুই বেলা আহার তুলে দিতে পারছি।
প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছি। তবে তাতে ভাতার যে টাকা পাই, সেটা আমার চাহিদার তুলনায় খুবই কম। আমার পুঁজি স্বল্প থাকায় বড় পরিসরে ব্যবসা চালাতে পারছি না। তবুও কারোও দয়া বা ভিক্ষাবৃত্তি নয়, নিজের চেষ্টায় কিছু করতে সর্বদা সংগ্রাম করে যাচ্ছি।