ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যে গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ৪ জন!

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৫:১৪, ১৫ নভেম্বর ২০২৪
যে গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র ৪ জন!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

একটি গ্রামে রয়েছে একটি বসতঘর। সেখানে জনসংখ্যা মাত্র চারজন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। গ্রামটির নাম উমানাথপুর। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নে ওই গ্রামটি অবস্থিত। যে দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব এক হাজার ১৭১ জন, সেখানে একটি গ্রামে মাত্র চারজন মানুষ থাকার ঘটনায় অবাক হয়েছেন অনেকে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উমানাথপুর গ্রাম। দলিল লেখক সিরাজুল সরকার (৭০) এই গ্রামের বাড়িটির একমাত্র মালিক। অন্যের জমির আইল দিয়ে এ বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। আর এ বাড়ি ঘিরেই গঠিত হয়েছে ‘উমানাথপুর’ গ্রাম। ব্যতিক্রমী এ গ্রামের বাড়িটি ২৫ শতক জমির ওপর। রয়েছে দুটি বসতঘর, একটি গোয়ালঘর, পুকুর ও একটি টয়লেট ছাড়াও কিছু গাছগাছালি। গ্রামটির অস্তিত্ব সম্পর্কে স্থানীয় আশপাশের গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া জানেন না বেশিভাগ এলাকার মানুষ।

সিরাজুল সরকারের একমাত্র বাড়িস্থানীয়রা জানান, বিচিত্র এ গ্রামের অস্তিত্ব রয়েছে ভূমি মানচিত্রে। উমানাথপুর নামে রয়েছে আলাদা মৌজাও। এই গ্রামের জেএল নম্বর ১১৬। উমানাথপুর গ্রামের পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র নদ। আশপাশে গ্রামের মধ্যে রয়েছে- উত্তরে রামগোবিন্দপুর, দক্ষিণে হরিপুর, পূর্বে উদয়রামপুর এবং পশ্চিমে রামগোবিন্দপুর ও হরিপুর গ্রাম।

Advertisement

প্রতিবেশী উদয় রামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই গ্রামটি। একই অবস্থা আমার নিজ গ্রাম উদয় রামপুরের। এখানেও চারটি পরিবারের বসবাস। এতে জনসংখ্যা প্রায় অর্ধশত।

রামগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হক পারভেজ বলেন, জমির কাগজপত্রের এই গ্রামের অস্তিত্ব রয়েছে। এই গ্রামের একমাত্র বাড়িটিতে যাতায়াতের রাস্তাটি প্রশস্ত করে দিলে বাড়িরে লোকজনের চলাচলে সুবিধা হতো।

হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন মিয়া বলেন, একটি বাড়ি নিয়ে একটি গ্রাম। এটি একটি আজব ঘটনা। প্রথমে এ খবর শুনে অনেকেই বিশ্বাসই করে না। কিন্তু এটিই সত্য।

সিরাজুল সরকারের একমাত্র বাড়িউমানাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল সরকার বলেন, আমার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য রমজান আলী সরকার ও তার পূর্বপুরুষরা এই বাড়িটি ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই গ্রামের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৭ একর। বাবা মারা যাবার পর থেকে আমি পরিবার নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করি। সম্প্রতি আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমাদের পরিবারের মোট সদস্য বর্তমানে চারজন। এর মধ্যে নাতি ছাড়া আমি, আমার স্ত্রী ও এক পুত্রবধূ ভোটার।

তিনি বলেন, আমার বোনেরা বাড়ির পেছনে অন্য গ্রামে বসবাস করেন। একটি মহল আমাকে এখান থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে। এ কারণে দেড় বছর আগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এখনো হুমকি পাচ্ছি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকির বলেন, অনেক আগ থেকেই একটি বাড়ি নিয়ে এই গ্রাম। গ্রামে ভালোভাবে যাতায়াত করার জন্য রাস্তা প্রশস্তের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!