তুষকা গ্রুপের শ্রমিকরা দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন দাবিতে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি পালন করেন। দুপুরের পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এসময় শ্রমিকরা তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা করেন। মালিকপক্ষ আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেন। কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জানায়, আগামীকাল রোববার থেকে কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।
অন্যদিকে, ইসলাম গ্রুপের শ্রমিকরা চারটার দিকে সেনাবাহিনী ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর সব দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পেলে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। শনিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে শ্রমিকরা বাসায় চলে যান।
.png)
ইসলাম গ্রুপের শ্রমিক বাপ্পি, নাজমা ও জমিলা খাতুন বলেন, আমাদের ২১ দফা দাবির মধ্যে প্রায় সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তবে ১৩ জন স্টাফের অব্যাহতির বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আশা করছি আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি দ্রুত মেনে নেয়া হবে। আমাদের দাবি, আজকের মধ্যে নোটিশ দিয়ে তাদের বের করে দিতে হবে।
শ্রমিকদের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, তারা দাবি মেনে নেয়ার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কিন্তু অব্যাহতির বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কিছু অসন্তোষ ও উদ্বেগ রয়েছে। শ্রমিকরা আশা করছেন যে, তাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ হবে, যেন কর্মক্ষেত্রে সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত হয়। তাদের এ কথা মালিকপক্ষের কাছে আরো একবার গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলাম গ্রুপের ওভেন সেকশনের পিএম মামুন বলেন, শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। আজকে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি যোগ করেন, আগামীকাল সকাল থেকে কারখানা পূর্বের ন্যায় খোলা থাকবে। এই আশ্বাসের ফলে শ্রমিকদের মধ্যে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা আগামীকাল আবার কাজ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
তুষকা গ্রুপের পরিচালক তারেক হাসান মুঠোফোনে জানান, শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুপুরের পরে আর কোনো শ্রমিক কারখানায় আসেনি, যা পরিস্থিতির একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে। তার কথায়, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং আশা করা হচ্ছে যে, আগামীকাল থেকে কারখানার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, তুষকা ও ইসলাম গ্রুপের শ্রমিকদের যে দাবি রয়েছে, সেগুলো শ্রম আইনে স্বীকৃত। বেশকিছু দাবি মালিকপক্ষ আগেই পূরণ করেছে, কিন্তু শ্রমিকদের অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে তারা আবারো এসব দাবি উপস্থাপন করছে। বিশেষ করে টিফিন বিল, নাইট বিল এবং হাজিরা বোনাসের মতো বিষয়গুলোতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন, যেন তারা নিজেদের দাবি নিয়ে সঠিকভাবে আওয়াজ তুলতে পারেন। শ্রম আইনের প্রতি শ্রমিকদের সচেতনতা না থাকার কারণে তারা অনেক সময় তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর কোনাবাড়ী জোনের পুলিশ পরিদর্শক মোর্শেদ জামান জানান, শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো মেনে নিলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল থেকে তুষকা গ্রুপ ও ইসলাম গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা হাজিরা বোনাস, বার্ষিক বেতন, নাইট বিল, টিফিন বিল বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে। তুষকা গ্রুপের শ্রমিকরা ১৬ দফা এবং ইসলাম গ্রুপের শ্রমিকরা ২১ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।